২২ বছর বয়সে কোনওরকমে টেনেটুনে মাধ্যমিক পাশ, ভাইরাল বাঁকুড়ার বাংলাও পড়তে না জানা শিক্ষক রাজীবের মাধ্যমিকের রেজাল্ট

এবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল বেরোনোর পর সকলের নজর কেড়েছিলেন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা প্রার্থী সুদীপ্তা বিশ্বাস। ইংরেজিতে ফেল করায় পাশ করানোর দাবী জানিয়ে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে ‘আমব্রেলা’ বানান জিজ্ঞাসা করা হলে সেই ভুল বানান বলেন তিনি। এরপরই তাঁকে নিয়ে নানান ট্রোল শুরু হয়। কিন্তু সেই সুদীপ্তা বিশ্বাসকেও হার মানাবেন বাঁকুড়ার প্রাথমিক শিক্ষক রাজীব কুমার।

২০২১ সালে রাজীব কুমার বাঁকুড়ার চড়ুইকুঁড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। কিন্তু অভিযোগ, অঙ্ক, ইংরেজি তো দূর, ভালোভাবে বাংলাও পড়াতে পারেন না তিনি। যুক্তাক্ষর সম্পর্কে কোনও জ্ঞানই নেই তাঁর। এই কথা জানার পরই স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা।

স্কুলের গেটে তালা দিয়ে দেন স্থানীয়রা। ওই শিক্ষককে অপসারণের দাবী তোলা হয়। সম্প্রতি ওই শিক্ষককে একটি সাধারণ বিয়োগ করতে দেন অভিভাবকরা। কিন্তু সেই সাধারণ বিয়োগ করতেও বেশ নাকানি-চোবানি খান রাজীব কুমার। সেই বিয়োগের সমাধান করতে পারেন না তিনি।

অন্যদিকে, রাজীব কুমারের দাবী, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে এই স্কুল থেকে সরানোর জন্য এমনটা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রাজীব কুমারের। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকরা স্পষ্ট জানান যে রাজীব কুমার কী শেখাবেন পড়ুয়াদের, উনি তো নিজেই কিছু জানেন না। আর এসবের মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে রাজীব কুমারের মাধ্যমিকের রেজাল্ট। যা দেখে সকলে রীতিমতো চমকে উঠেছেন।

২২ বছর বয়সে কোনওরকমে টেনেটুনে মাধ্যমিক পাশ, ভাইরাল বাঁকুড়ার বাংলাও পড়তে না জানা শিক্ষক রাজীবের মাধ্যমিকের রেজাল্ট ২২ বছর বয়সে কোনওরকমে টেনেটুনে মাধ্যমিক পাশ, ভাইরাল বাঁকুড়ার বাংলাও পড়তে না জানা শিক্ষক রাজীবের মাধ্যমিকের রেজাল্ট

অভিযুক্ত রাজীব কুমারের বয়স ৩৬ বছর। কিন্তু তিনি মাধ্যমিক পাশ করেছেন ২০০৮ সালে। তাহলে হিসাব মতো তিনি ২২ বছর বয়সে মাধ্যমিক পাশ করেছেন। এই কারণে সরকারি স্কুল নয়, পশ্চিমবঙ্গ রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করতে হয়েছে তাঁকে। আর ২২ বছর বয়সে এসেও খুব টেনেটুনেই পাশ নম্বর তুলতে হয়েছে তাঁকে।

তাঁকে নিয়ে বিতর্ক তো আগের থেকেই ছিল। তবে এবার রাজীব কুমারের এই রেজাল্ট দেখার পর ফের নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ওই শিক্ষককে নিয়ে। এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে স্কুল শিক্ষক পদে নিযুক্ত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।

RELATED Articles