চাঁদার নামে তোলাবাজি, কালীপুজোর চাঁদা ১০ হাজার টাকা, না দিতে পারায় বেধড়ক মারধর শ্রমিককে

কালীপুজোর চাঁদা বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবী করেছিল স্থানীয় ক্লাব। কিন্তু গরীব শ্রমিক তা দিতে পারেন নি। সেই কারণে হামলা করা হয় শ্রমিকের বাড়িতে। বাড়ির মালিককে মারধর করার অভিযোগও উঠেছে ক্লাবের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে ভর্তি বাড়ির মালিক। বাড়ির মালিকের স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের আটইরে। জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় নতুন এসেছে একটি পরিবার। পরিবারের মালিক একটি মোমোর দোকানে কর্মরত। মাসখানেক আগেই আটইরে এলাকায় থাকবার মতো একটি বাড়ি বানিয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই ডোনেশনের দাবী করতে থাকে স্থানীয় ক্লাবের সদস্যরা। কালীপুজোর চাঁদা ও ডোনেশন নিয়ে ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়।  

পরিবারের মালিক জানান, তিনি ২ হাজার টাকা দেবেন। কিন্তু তাতে রাজি হয় না ক্লাব। গত বৃহস্পতিবার বিসর্জন দেওয়া হয় কালী প্রতিমা। এরপরই ক্লাবের সদস্যরা মত্ত অবস্থায় ওই বাড়িতে চড়াও হয়। চাঁদা নিয়ে জুলুমবাজি চলে। তাতে বাধা দেওয়ার বাড়ির মালিককে বাঁশ, লাঠি বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

এমনকি, বাড়ির মালিকের স্ত্রীর শ্লী’ল’তা’হা’নি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির মালিক গুরুতর আহত হন। তাঁকে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ জানান বাড়ির মালিকের স্ত্রী। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কী জানান বাড়ির মালিকের স্ত্রী?

আক্রান্ত বাড়ির মালিকের স্ত্রী জানান, “আমরা এলাকায় নতুন বাড়ি করছি। ফলে ওই এলাকার একটি ক্লাবের তরফে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমরা ২ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। স্বামীকে বেধরক মারধর করা হয়”।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বালুরঘাট সদর ডিএসপি হেডকোয়ার্টার সোমনাথ ঝা বলেন, “চাঁদা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে একটি ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টির অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। চাঁদার জুলুমবাজি করে থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

RELATED Articles