কলকাতার (kolkata) পরিবহণ ব্যবস্থায় মেট্রোরেল একটি বিপ্লব নিয়ে এসেছে। দ্রুত, আরামদায়ক, এবং পরিবেশবান্ধব এই পরিবহণ ব্যবস্থা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে স্বল্প সময়ে পৌঁছে যাওয়ার ক্ষেত্রে মেট্রো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ার পর থেকে মানুষের যাতায়াতের চাপ অনেকটাই কমেছে। তবে, কখনও কখনও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এই পরিষেবায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে, যা যাত্রীদের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মেট্রো পরিষেবায় সামান্যতম ব্যাঘাত ঘটলেও যাত্রীদের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়। একের পর এক ট্রেন বাতিল হলে প্ল্যাটফর্মে ভিড় জমতে থাকে। কর্মস্থলে পৌঁছানোর তাড়নায় যাত্রীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিশেষত ব্যস্ত সময়ে এই ধরনের পরিস্থিতি যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করে। অনেক সময় এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, বিশৃঙ্খলার মতো ঘটনা ঘটে। ফলে একদিকে যেমন যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, অন্যদিকে পরিষেবার উপর থেকে আস্থা নষ্ট হয়।
বুধবার দুপুরে দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষগামী একটি মেট্রো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে যাত্রা শুরু করার কথা থাকলেও ট্রেনটি স্টার্ট না হওয়ায় যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে মেট্রো পরিষেবা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, পরপর তিনটি মেট্রো বাতিল হয়, যার ফলে প্ল্যাটফর্মে ভিড় বাড়তে থাকে। দক্ষিণেশ্বর থেকে দমদম পর্যন্ত একাধিক স্টেশনে যাত্রীদের তীব্র সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে একসঙ্গে তিনটি মেট্রো চালানো হলেও ভিড় কমানো সম্ভব হয়নি।
ভিড়ের চাপে দমদম স্টেশনে একটি মেট্রোতে ওঠার সময় ঘটে বিপত্তি। বেলঘরিয়ার বাসিন্দা পুতুল দে মেট্রোর ভিতরে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় পিছন থেকে যাত্রীদের ধাক্কাধাক্কির ফলে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং তাঁর পায়ে চোট লাগে। যদিও মেট্রো কর্তৃপক্ষ এই ধরনের হুড়োহুড়ির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সমস্ত কিছু পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং যাত্রীদের মধ্যে এমন কোনও বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যের মহিলাদের বদলাবে জীবন! এবার পাবেন নগদ টাকা! বৃদ্ধি পাবে টাকা অঙ্ক!
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িক অসুবিধা হলেও দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে নতুন রেক চালু করা হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মেট্রো সূত্রে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, যাত্রীরা দাবি করেছেন, ভিড় সামলাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই ধরনের ঘটনা যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ায় এবং পরিষেবার প্রতি আস্থা কমায়। উন্নত প্রযুক্তি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মেট্রোরেল পরিষেবার মান আরও উন্নত করার দাবি তুলেছেন যাত্রীরা।





