প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ, গর্ভবতী নাবালিকা, পুলিশের জালে অভিযুক্ত

একাধিকবার ধর্ষণ নাবালিকাকে। আর এর জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে নাবালিকা। অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক অত্যাচার করা হয়েছে সতেরো বছরের কিশোরীর উপর, এমনটাই অভিযোগ।   

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার গোবরডাঙার বেরগুম পঞ্চায়েত এলাকায়। ওই রলাকার বাসিন্দা সতেরো বছরের ওই নাবালিকা। সেই এলাকাতেই থাকেন অভিযুক্ত সুনীল রায়। বয়স ৪২ বছর। একই পাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে পরিচয় ছিল অভিযুক্তের। ফলে নাবালিকার বাড়িতে যাওয়াআসাও ছিল সুনীলের।  

অভিযোগ, সেই অছিলাতেই নাবালিকাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সুনীল। শুধু তাই-ই নয়, কাউকে একথা জানালেন খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই ভয়েই কাউকে কিছু জানান নি নাবালিকা। তবে কিছুদিন ধরেই মেয়ের শরীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করছিলেন তাঁর মা। এরপরই বিষয়টি সামনে আসে।  

গত মঙ্গলবার ওই নাবালিকাকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে যান। নাবালিকার মা জানান, “হাসপাতালে পরীক্ষার পর জানতে পারি, মেয়ে গর্ভবতী। জানতে পেরে জিজ্ঞাসা করলে, প্রথমে মেয়ে নাম বলতে চায়নি। পরে অবশ্য অভিযুক্তর নাম বলে। জানায়, সুনীল হুমকি দিয়ে বলেছিল কেউ জানতে পারলে গোটা পরিবারকে খুন করবে। তাই ভয়ে সে আমাদের বলেনি। মেয়ে এবছর মাধ্যমিক দেবে। পড়াশোনায়ও খুবই ভালো। মেয়ের যে এই সর্বনাশ করল, তার কঠোর শাস্তির দাবী করছি”।

গতকাল, বুধবার সুনীলের বিরুদ্ধে গোবরডাঙা থানায় অভিযোগ জানায় নাবালিকার পরিবার। এরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ, বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয় তাকে। জানা গিয়েছে, আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে সে। অভিযুক্তের কথায়, “বুঝতে পারিনি এমনটা হয়ে যাবে। তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগটি মিথ্যা”।

এদিন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে তাকে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। বারাসাত পুলিশ সুপার জানাচ্ছেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। আইন অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ ‘মানুষের জীবন বাঁচানোর লড়াই, আমি সবটা মনিটরিং করব…’, ‘দানা’য় নজর রাখাই লক্ষ্য, রাতভর নবান্নে অতন্দ্র প্রহরী মমতা

বলে রাখি, এক সপ্তাহ আগেইই আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁর এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। ওই দিনই  প্রধান অভিযুক্তকে নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জয়গাঁ থেকেই আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

RELATED Articles