মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই একাধিক ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি সামলেছেন তিনি। এর আগে আমফান-রেমালের সময়ও রাতভর নবান্নে জেগে দুর্যোগ পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন তিনি। এবারও এর অন্যথা হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার রাতে যখন ‘দানা’র ল্যান্ডফল হবে, সেই সময়ও নবান্নে গোটা রাত অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে জাগবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, তিনি সারারাত নবান্নে থাকবেন। সেখান থেকেই গোটা দুর্যোগের মনিটরিং করবেন তিনি। তিনি এও সতর্ক করে দেন, “অনেকে বলছেন ধামরার দিকে যাবে। এদিকে কিছু হবে না। কিন্তু এটা ঠিক নয়”।
মমতার কথায়, “সব থেকে দামী হচ্ছে মানুষের জীবন। এটা জীবন বাঁচানোর লড়াই। আমি রাতে আজ নবান্নে থাকব। উদ্ধারকারী দল কাজ করবে। আমি সবটা মনিটারিং করব”।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ৮৫১টি ক্যাম্প খোলা হয়েছে। সেখানে ৮৩ হাজার ৫৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। নিচু এলাকা থেকে ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯৪১ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কড়া নজর রাখা হচ্ছে উপকূলের এলাকাগুলিতে। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আরও মানুষকে ক্যাম্পে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্যোগের মোকাবিলায় প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা জেলায় জেলায় রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার জন্য নবান্নে হেল্পলাইন নম্বর (০৩৩) ২২১৪৩৫২৬ চালু করা হয়েছে। যেকোনও ধরনের সমস্যায় যে কেউ ফোন করতে পারেন। তবে সিরিয়াস এই বিষয়ে কেউ যেন গুজব না ছড়ান, মনে রাখবেন এটা মানুষের জীবন বাঁচানোর লড়াই। অথচ যার যা ইচ্ছে বলে দিচ্ছে ইউটিউবে। কাজেই গুজব থেকে সতর্ক থাকুন”।
আরও পড়ুনঃ রবিবার আর জি করের নির্যাতিতার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করবেন অমিত শাহ, বিজেপির তরফে শুরু তৎপরতা
প্রসঙ্গত, আজ, বৃহস্পতিবার রাত বা শুক্রবার সকালের মধ্যেই ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। ওড়িশার ভিতরকণিকা ও ধামরার মাঝের এলাকায় ল্যান্ডফল হবে এই ঘূর্ণিঝড়ের। ল্যান্ডফ্লের সময় এর গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। এর জেরে দিঘা, মন্দারমনিতে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা হতে পারে ১ থেকে ২ মিটার। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বন্দরেও কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।






