কাজই নেই বাংলায়, খাবে কী? ভিনরাজ্যে কাজ করে বাংলার ২১ লক্ষেরও বেশি শ্রমিক, কারখানাগুলো আদৌ খুলবে কোনওদিন?

More Than 21 Lakhs Bengal Workers Work in Other Cities: সম্প্রতি বন্ধ হয়েছে তারাতলার ব্রিটানিয়ার কারখানা। আর এরপরই বাংলায় কর্মসংস্থান নিয়ে ফের উঠেছে প্রশ্ন। কারখানা বন্ধ হওয়া, কাজ হারানো এমন নানান বিষয় নিয়ে বেশ প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকার (More Than 21 Lakhs Bengal Workers Work in Other Cities)। ভোট মিটে যাওয়ার পর যখন নানান ট্রেন ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছিল, তখন সেইসব ট্রেনে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিড় দেখে অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠার জোগাড় হয়েছিল। কাজশূন্য বাংলার হাল দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিলেন মানুষ।

বাংলায় কাজ নেই, সেই কারণেই পরিবার ছেড়ে দীর্ঘদিনের জন্য অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে হয় বাংলার শ্রমিকদের। এই নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, অনুযোগ কম নয়। এবার বিধানসভাতেও উঠল এমন অভিযোগ। গতকাল, শুক্রবার বিধানসভায় ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যে কতগুলি কারখানা বন্ধ রয়েছে? বাংলার কত শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজ করছেন?    

এদিন বিধায়কের এই প্রশ্নের উত্তর দেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। তিনি জানান, ২০২২-২৩ সালে রাজ্যে মোট ১৭১টি কারখানা বন্ধ ছিল। আর ২০২৩-২৪ অর্থাৎ বর্তমানে রাজ্যে বন্ধ রয়েছে মোট ১৬৯টি কারখানা (More Than 21 Lakhs Bengal Workers Work in Other Cities)

 শ্রমমন্ত্রী এও জানান যে মোট কতজন শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজ করছেন। খতিয়ান তুলে মন্ত্রী জানান, বাংলার ২১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৩৭ জন শ্রমিক এই মুহূর্তে ভিনরাজ্যে কাজ করছেন (More Than 21 Lakhs Bengal Workers Work in Other Cities)। এদের মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিকই কাজ করছেন মহারাষ্ট্রে। তবে কোন রাজ্যে কত শ্রমিক কাজ করছেন, সেই হিসাব দেওয়া হয়নি।  

এই উত্তরে নওশাদ সিদ্দিকি পাল্টা বলেন, এই ২১ লক্ষেরও বেশি যে শ্রমিকের সংখ্যার কথা জানানো হয়েছে, তা মাত্র এক বছরে নথিভুক্ত করা হয়েছে (More Than 21 Lakhs Bengal Workers Work in Other Cities)। এর আগে ২০২২৫ সালে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনও উত্তর দেয়নি রাজ্য, এমনটাই খবর। আইএসএফ বিধায়ক এদিন এও বলেন যে ওয়ানাড়ে কর্মরত অনেক বাংলার শ্রমিক এখনও আটকে রয়েছেন সেখানে। সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে দাবী করেন নওশাদ।  

এদিন নওশাদের এই দাবীর প্রেক্ষিতে মলয় ঘটক জানান, কেরলে ওয়ানাড়ে ধসের ঘটনায় বাংলার প্রায় ২৪২ জন শ্রমিক আটকে পড়েছেন। এদের মধ্যে ১৫৫ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এই সমস্ত তথ্য সরকারের দফতরে রয়েছে।

RELATED Articles