তাঁর হাত ধরেই করোনা ঢোকে রাজ্যে, এবার সেই ছাত্রের মা নবান্নের আমলার বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ, কিন্তু নিষ্ক্রিয় পুলিশ-প্রশাসন

রাজ্যে করোনার শুরুটা ওই ছাত্রের হাত ধরেই। বিদেশ থেকে করোনা আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে ফিরে রাজ্যের নানান প্রান্তে ঘুরে বেরিয়েছিলেন তিনি। নবান্নের কর্মী হওয়ার সুবাদে উচ্চ মহলের প্রভাব খাটিয়ে কৃষ্ণনগরে চলে যান। কিন্তু ধরা পড়ার পরও কোয়ারেন্টাইনে থাকেন নি তারা। আর এর ফলে অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও করোনা সংক্রমণ এড়ানো যায় নি রাজ্য থেকে। এবার সেই নবান্নের আমলা অরুণিমা দে ঘোষের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগরে এক জমির মালিককে নাগাড়ে উত্যক্ত করে যাচ্ছেন নবান্নের ওই আমলা অরুণিমা দে ঘোষ। জমিবাড়ির মালিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই নবান্নের আমলার বিরুদ্ধে। এমনকি ওই বাড়িতে কাজ করা রাজমিস্ত্রিদের বিরুদ্ধেও মিথ্যে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে কৃষ্ণনগর কলেজ মাঠ সংলগ্ন চার্চের পাশে একটি জমিবাড়ি কিনেছিলেন বাপ্পা শেখ নামের এক ব্যক্তি। সেই বাড়িতে এখন কাজ করছেন কিছু রাজমিস্ত্রি। কিন্তু অভিযোগ, আচমকাই নবান্নের ওই আমলা অরুণিমা দে ঘোষ দাবী করেন, সেই বাড়ি নাকি তাঁর শাশুড়ির। ওই ব্যক্তিকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন অরুণিমা দে ঘোষ।

এদিকে বাপ্পা শেখের কাছে ওই জমিবাড়ির বৈধ কাগজপত্র, দলিল, ছাড়পত্র সবই রয়েছে। কিন্তু নিজের প্রভাব খাটিয়ে ওই মহিলা কোতোয়ালি থানার পুলিশকে দিয়ে বাপ্পা শেখ নামের ব্যক্তিকে হয়রানি করান বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি অরুণিমা দে ঘোষের তরফে।

এই বিষয়ে বাপ্পা শেখ নামের ব্যক্তি জানিয়েছেন, বছরখানেক আগে এই জমিবাড়িটি কেনেন তিনি। সমস্ত বৈধ কাগজপত্র রয়েছে তাঁর কাছে। গত ১৫ দিন ধরে বাড়ি সারাইয়ের কাজ করছেন তিনি। কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নবান্নের আমলার উৎপাত। অরুণিমা দে ঘোষ দাবী করেছেন, ওই বাড়ি তাঁর শাশুড়ির নামে রয়েছে। তাঁকে ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ওই আমলা, এমনটাই অভিযোগ বাপ্পা শেখের।

বাপ্পা শেখ জানান, এই বিষয়ে তিনি এসডিও, আইসির কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। আইসি তাঁর সমস্ত কাগজপত্র দেখে জানিয়েছেন যে তাঁর সব কাগজ ঠিক আছে, কিন্তু নবান্ন থেকে চাপ আসার কারণে তারা কোনও পদক্ষেপ করতে পারছেন না। পুলিশের বক্তব্যও তাই। বাপ্পা শেখের কথায়, এই নিয়ে তাঁর পরিবার খুব অশান্তির মধ্যে রয়েছে। তিনি যাতে নিজের জমিবাড়ি ফেরত পান, এর আর্জি জানিয়েছেন তিনি প্রশাসনকে।

এই ঘটনা থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন নিজের অধিকার পাবেন না সাধারণ মানুষ। নবান্নে উচ্চ পদে চাকরির জন্য নিজের প্রভাব খাটিয়ে এমন জোরজুলুম কীভাবে করতে পারেন এক আমলা। আর এই বিষয়ে প্রশাসনই বা কেন নিষ্ক্রিয়? উপরমহল থেকে চাপের কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক বিচার পাবে না, এমনটা কী মেনে নেওয়া সম্ভব! এই ঘটনায় শাসক দলের বিরুদ্ধে ফের উঠল আঙুল।

RELATED Articles