মমতার তকমা দেওয়া কামদুনির ‘মাওবাদী’ মৌসুমী এবার বিজেপি শিবিরে! রবিবাসরীয় ব্রিগেডে গেরুয়া ধ্বজা তুলে নিতে পারেন মাস্টারমশাই ও মৌসুমী

রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একটি ধর্ষণকাণ্ডে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য। ‘কামদুনি ধর্ষণ কাণ্ড’। মমতা আখ্যা দিয়েছিলেন ‘ছোট্ট ঘটনা।’ যাঁরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন তাঁদের মাওবাদী বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দেখে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন প্রতিবাদী মৌসুমী, টুম্পা কয়ালরা। গ্রামের মেয়েগুলো চোখে চোখ রেখে প্রাণের তোয়াক্কা না করে লড়াই চালিয়ে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। পৌঁছেছিলেন দিল্লি পর্যন্ত।  কামদুনির অভিযুক্তদের এখন‌ও সাজা হয়নি। এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মৌসুমিরা। তবে সময় বয়ে গেছে। বিভিন্ন ঘটনার ভিড়ে হারিয়ে গেছে কামদুনি।

আরও পড়ুন–বিজেপির জালে মমতা! নন্দীগ্রামে শুভেন্দু, ভবানীপুরে বাবুল, চিন্তার ভাঁজ ঘাসফুলের কপালে 

ভোটে জিততে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল লক্ষ্য এখন তারকারা। আর এবার একুশের হাইভোল্টেজ নির্বাচনে মমতার বিপক্ষে লড়তে আসছেন ফের কামদুনির প্রতিবাদীরা। কানাঘুষোয় তো এমনই জানা যাচ্ছে।

আপাত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭ই মার্চ রবিবার নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেডের মঞ্চ থেকেই গেরুয়া ধ্বজা হাতে তুলে নিতে পারেন কামদুনির মাস্টারমশাই ও মৌসুমীরা বলে খবর।

আরও পড়ুন–WB Election 2021: চমকে ভরা বিজেপির ব্রিগেড, ৭ই মার্চ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন শতাব্দী রায়!!

মমতা বরাবরই বিভিন্ন সময়ে মেজাজ হারিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে সরব হ‌ওয়া মানুষটা নিজের রাজ্যের ধর্ষণকাণ্ডে মৌসুমী, টুম্পাদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে মেজাজ হারিয়েছিলেন । ধমক দিয়ে গিয়েছিলেন, মাওবাদী বলতেও ছাড়েননি । সেই সব কথা ভুলে আস্থা রেখেছিলেন প্রশাসনের উপর । মুখ্যমন্ত্রী যে বলে গিয়েছিলেন কামদুনিতে দাঁড়িয়ে, “দোষীরা একমাসের মধ্যে শাস্তি পাবে ।” তারপর প্রায় আট বছর হতে চলল । এখনও সাজা পায়নি দোষীরা ।

সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত হয়ত আর পারলেন না তাঁরা মমতার প্রশাসনের উপর আস্থা রাখতে । সেই কারণেই কি বিজেপির দিকে পা বাড়ালেন কামদুনির প্রতিবাদীরা ? কামদুনির মাস্টারমশাই প্রদীপ মুখোপাধ্যায় অবশ্য বিজেপি যোগের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন । কামদুনি মামলার অগ্রগতি না হওয়া, দোষীদের সাজা ঝুলে থাকা, তৃণমূল সরকারের উদাসীন মনোভাব-সহ একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখেই তাঁরা বিজেপির দিকে পা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মাস্টারমশাই ।

কি বলছেন মৌসুমী কয়াল?

তিনি অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডে থাকার বিষয়ে এখনই কিছু মন্তব্য করতে চাননি । বলছেন, “আমাকে আরও দু’টো দিন সময় দিন । তারপর সব বলব ।” তবে তিনি এও বলেন, এখনও পর্যন্ত যা কথা হয়েছে, তাতে ব্রিগেডের সভা তাঁর থাকার সম্ভবনা ৮০ শতাংশ । বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে বাকিটা চূড়ান্ত হবে ।

তবে বিজেপিতে যোগদানের শর্তও রেখেছেন কামদুনির মাস্টারমশাই । তাঁর শর্ত, কামদুনির অন্যতম প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী কয়ালকেই বিধানসভার টিকিট দিতে হবে । এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য স্তরের নেতাদের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক কথাবার্তাও হয়েছে ।

RELATED Articles