নৃশংসতা! বি’ষ খাইয়ে একের পর এক পথ কুকুরদের খু’ন, অভিযোগ দায়ের থানায়, দোষীদের শাস্তির দাবী

“জীবে প্রেম করে যে জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”! স্বামী বিবেকানন্দের এই উক্তি বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। অনেকেই রাস্তার পশুদের পছন্দ করেন না, এদিকে তাদের বাড়িতেই থাকে নামিদামি পোষ্য। এমন অনেক সময় হয়ে থাকে রাস্তার পশুদের অবহেলা করে নিজের বাড়ির পোষ্যকে ভালোবাসেন তারা‌। রাস্তার পশুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বহু ঘটনার সাক্ষী থেকেছে কলকাতা। তবে একেবারে বিষ খাইয়ে খুন‌। এলাকার লোক যাতে টেনাপাইন তাই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারো চোখের সামনে বা রাতের অন্ধকারে পিটিয়ে মেরে নয়, বিষ খাইয়ে খুন করা হল পথ কুকুরদের। পথ কুকুরদের খাবারে বিষ মেশানোর অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁর দীনবন্ধু নগর এলাকায়।

বনগাঁয় রাতের অন্ধকারে কোন লোক বা একত্রিত কিছু জন প্ল্যান করে বিষ খাইয়ে খুন করলেন পথকুকুরদের। ওই বিষাক্ত খাবার খেয়ে মারা যান তিনটি কুকুর। এমনকি এলাকার বেশিরভাগ পশুই অসুস্থ হয়ে পড়েছে সেই খাবার খেয়ে। এই বিষয়টি প্রথম লক্ষ্য করেন এলাকারি বাসিন্দা সুস্মিতা রায়। তার বাড়ির সামনে তিনটি পথ পুকুরে দেহ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ বাধে তার মনে। এমনকি বেশ কয়েকটি পশুদের বমি করতেও দেখেন তিনি। তাতেই সন্দেহ গাঢ় হয়, তিনি অনুমান করেন কেউ বা কারা এই পথে কুকুরদের বিষাক্ত খাবার খাইয়েছেন।

পথ কুকুরদের এমন অসহায় অবস্থা দেখে পশু চিকিৎসককে খবর দেন সুস্মিতা। জানা গেছে অসুস্থ প্রথম কুকুরদের চিকিৎসা চলছে। পশু চিকিৎসককে ডাকার পাশাপাশি তিনি খবরটি জানান বনগাঁ এলাকার পশুপ্রেমী সংগঠনকে। তারাই দায়িত্ব নিয়ে পথ কুকুরদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন সুস্মিতা। বনগাঁ থানা এলাকায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে অভিযোগ করেন তিনি। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কে বা কারা এমন ঘটনা করল, সেই নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে এলাকায়।

সুস্মিতা রায় জানান, “এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তখন সময় মতো জানতে পেরেছিলাম তাই এলাকার সারমেয়গুলিকে বাঁচানো গিয়েছিল। এবার আর সে সময় পাওয়া গেল না। কেউ বা কারা এই ঘটনা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ঘটিয়েছে বলে অনুমান তাঁর।” এ বিষয়ে বনগাঁর সংগঠনের সদস্য তন্ময় দাস বলেন, “যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

RELATED Articles