কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি, হঠাৎ করে এমন দিন দেখতে হবে। একদিন যাঁরা ছিলেন নিজের বাড়িতে, নিজের পাড়ায়, আজ তাঁরা আশ্রয়হীন। কারণ—ওয়াকফ আই। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা হঠাৎ করেই এমন মোড় নিল, যার আঁচ এসে পড়ল সাধারণ মানুষের ঘরে। জমি কার, কে মালিক—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রশাসন কিছু এলাকাকে নজরদারির আওতায় এনে নেওয়া শুরু করল কড়া পদক্ষেপ। আর তাতেই জীবনের ছন্দ হারিয়ে ফেললেন অনেকেই।
শুধু ঘর ছাড়া করাই নয়, কোথাও কোথাও মানুষজনকে বলা হয়েছে, এলাকা থেকে বাইরে বেরোলে নিতে হবে অনুমতি। যাঁরা কেবলমাত্র দিনমজুরি বা ছোটখাটো ব্যবসা করে সংসার চালান, তাঁদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। ঘর ছাড়ার পাশাপাশি জীবিকা, ওষুধ, চিকিৎসা—সব কিছু যেন আটকে পড়েছে এক অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, “আমরা কি দাগী আসামি? আমরা কি কোনও অপরাধ করেছি?”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু অস্থায়ী ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে স্বস্তির মুখ দেখতে পাচ্ছেন না ঘরছাড়ারা। স্কুলভবন কিংবা খোলা মাঠে তৈরি ত্রিপলের তাঁবুতে কোনোরকমে দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক মানুষ। গরম, জল, পয়ঃনিষ্কাশন—সবই অস্বস্তিকর। তবুও বাধ্য হয়ে ঠাঁই নিচ্ছেন সবাই, কারণ আর কোথাও যাওয়ার উপায় নেই।
এই ক্যাম্পগুলিতে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ। অধিকাংশেরই কোনও ওষুধ নেই, যাঁদের আগে থেকে রোগ ছিল, তাঁদের অবস্থা আরও খারাপ। এক মহিলা বলেন, “ডায়াবেটিসের ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। বাইরে বেরোতে দিচ্ছে না, কীভাবে চলব?” অন্য এক প্রবীণ বলেন, “আমরা তো অপরাধী নই। তাহলে আমাদের এই শাস্তি কেন?” চোখে জল নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেছেন, মানুষ হিসেবে একটু সম্মান পাওয়ার অধিকার কি নেই আমাদের?
আরও পড়ুনঃ যাত্রীদের সামনেই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা! মেট্রোয় প্রেমিক-প্রেমিকার কাণ্ডে নেটদুনিয়ায় বিস্ফোরণ!
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও স্থায়ী সমাধানের রাস্তা দেখানো হয়নি। ক্যাম্পে থাকা মানুষদের একটাই আর্জি—“আমাদের একটা সুযোগ দিন, যাতে আবার আগের জীবনে ফিরতে পারি।” ওয়াকফ আই নিয়ে বিতর্ক যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা করছেন অনেকে। এখন প্রশ্ন একটাই—এই মানুষগুলোর পাশে কে দাঁড়াবে?





