রামকথা শুনিয়ে, রামায়ণের চিত্র এঁকেই চলে রুজিরুটি, রামমন্দিরের উদ্বোধনে খুবই উচ্ছ্বসিত বাংলার মুসলিম পটশিল্পীরা

রামায়ণের নানান কাহিনী শুনিয়ে, পট এঁকেই চলে তাদের সংসার। সেটাই তাদের রোজগার। এভাবেই দিন কাটে তাদের। অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধনে বেজায় খুশি বাংলার এই মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামের বাসিন্দারা।

কোথায় রয়েছে এই গ্রাম?

পিংলা ব্লক অফিস থেকে ৭-৮ কিলোমিটার ভিতরে নয়া এলাকা রয়েছে। সেই এলাকাতেই রয়েছে এই মুসলিম পটশিল্পীদের গ্রাম। সেই গ্রামে ঢুকলেই মনে হবে এক অন্য জগতে চলে গিয়েছেন। সেখানে বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে আঁকা রয়েছে নানান পৌরাণিক কাহিনী। ধর্মে এই গ্রামের বাসিন্দারা মুসলিম হলেও, বছরের পর বছর ধরে তারা কিন্তু নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছেন রামায়ণের গান শুনিয়েই।

কাগজ বা মোটা কাপড়ের উপর ভেষজ রঙ দিয়ে আঁকা হয় নানান কাহিনীর ছবি। পটে ফুটে ওঠে শিল্পীদের অসাধারণ তুলির টান। রামচন্দ্রের বনবাস থেকে শুরু করে সীতাহরণ, লঙ্কাকাণ্ড, রাবন বধ সব কাহিনীই শিল্পীরা ফুটিয়ে তোলেন এই পটের মাধ্যমে। রামায়ণের সাত খণ্ড নিয়ে নানান গানও বাঁধেন তারা।

তাদের এই প্রতিভা বাংলা তো বটেই ছড়িয়ে পড়েছে দেশে বিদেশেও। রাজ্যের বাইরেও এখন রামায়ণের কাহিনী, রামকে নিয়ে বাধা গান শোনাতে যান এই গ্রামের পটশিল্পীরা। অয্যোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধনে বেজায় খুশি হয়েছেন এই মুসলিম পটশিল্পীরা। অয্যোধ্যায় গিয়েও তারা রামায়ণের গান শোনাতে উৎসুক বলে জানান তারা।

 এই গ্রামেরই এক পটশিল্পী জানান, অনেক ছোটো বয়স থেকেই দাদুর সঙ্গে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে রামায়ণের গান শোনা যেতেন তিনি। ওই পটশিল্পীর কথায়, “বাংলায় রামায়ণ প্রথম থেকে ছিল এবং পরেও থাকবে। আমরা ছোটবেলায় দাদুর সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রামায়ণের গান শোনাতাম। এখনও শোনাই। সম্মানও পেয়েছি। আসন পেতে বসতে দেন সকলেই। দানে চাল, সবজি, টাকাও পাই। আগামীকাল রাম মন্দির উদ্বোধন। এতে আমি খুবই খুশি। কারণ রামের পট এঁকে গান শুনিয়েই আমাদের সংসার চলে”।

আরও অন্যান্য খবর