শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত ধীরে ধীরে বাড়ছে। যত দিন যাচ্ছে রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রীর দূরত্বটা প্রকট হচ্ছে। এবার শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ তিনজন তৃণমূল নেতার সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করল নবান্ন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা যে, এর মধ্যে দিয়ে শুভেন্দুকে কোনো কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে মমতা সরকার।
দুদিন আগে নন্দীগ্রাম দিবসে অরাজনৈতিক সভা করেন পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকালই তার ঘনিষ্ঠ তিনজন তৃণমূল নেতা সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয় নবান্ন। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য এই ঘটনাটি কাকতালীয় নয়।
যে তিনজন তৃণমূল নেতাকে নিরাপত্তাহীন করে দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন, অন্য দুই গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতা আবু তাহের এবং মেঘনাথ পাল। মঙ্গলবারের শুভেন্দুর সভার প্রধান আয়োজক ছিলেন তারা।
মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন যে, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি জেলার সর্বাধিপতি। সারা দিন দলের হয়ে, জেলার হয়ে কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়াতে হয় আমায়। এমন একজনের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা খুবই দুর্ভাগ্যজনক একটি বিষয়। তবে আমি জানি মানুষ আমার পাশে আছে। তারাই আমায় নিরাপত্তা দেবে। তবে এই বিষয়ে আমি রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি।”
আবু তাহেব এইদিন বলেন,”এটা আমার জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক একটি বিষয়। আমি এখনও তৃণমূলের সৈনিক। আমি তৃণমূলের হয়ে লড়াই করি। শুভেন্দু অধিকারী এখনও দল ছাড়েননি। দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়নি তাকে। আমি বছরে কেবল ৪টি দিন BUPC করি। বাকি ৩৬১ দিন আমার হাতে দেখা যায় জোড়াফুলের ঝাণ্ডা।”
তবে সব থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি টুইটারে লিখেছেন যে, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক কারণ রাজনৈতিক চাপে এই নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজনীতি চালানো উচিত নয়। এর থেকেই বোঝা যায় যে পুলিশ এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর কতটা অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে প্রভাবিত।





