ধীরে ধীরে হয়ত এবার সত্যিই বীরভূমের রাজনীতি থেকে মুছে যাচ্ছে অনুব্রত মণ্ডলের নাম। গত এক বছর ধরে গরু পাচার কাণ্ডে জেলবন্দি কেষ্ট। তারপর থেকেই বীরভূমের রাজনীতিতে যেন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছিলেন কেষ্ট। এবার দেখা গেল নানুরের তৃণমূলের কার্যালয় থেকে মুছে গেল অনুব্রতর নাম ও ছবি।
অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশ ছাড়া নাকি বীরভূমের একটা পাতাও নড়ত না, এমনটাই বলা হত আগে। কিন্তু গত ১ বছর সেই অনুব্রতই জেলবন্দি থাকার কারণে বীরভূমের রাজনীতিতে বদল এসেছে চোখে পড়ার মতো। যে অনুব্রতর বাড়িতে আগে সবসময় লোকজনের সমাগম থাকত, এখন বোলপুরের সেই বাড়িই ফাঁকা।
অনুব্রতর অনুরাগীরাও বীরভূমের জেলা কার্যালয় থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছে। আর এবার নানুরের হোসেনপুরে তৃণমূলের কার্যালয়ে দেখ গেল হঠাৎই ভ্যানিশ কেষ্টর নাম ও ছবি। তা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তবে কী কেষ্টকে ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হল? এখন এই প্রশ্নই ঘুরছে বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে।
কী প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের?
বীরভূমে তৃণমূলের একাধিক কার্যালয়ের দেওয়াল থেকে ‘অনুব্রত মণ্ডল কেষ্ট’ শব্দ তিনটি মুছে দেওয়া হয়েছে। ছবিতেও সাদা রং। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বলছেন, কারা এমন ঘটনা ঘটাল বোঝা যাচ্ছে না। এই বিষয়ে নানুরের ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, “এটা স্পষ্টভাবে আমি জানি না। তবে এমনও হতে পারে পুজোর আগে হয়ত দেওয়াল নতুন করে রং করা, ধোয়া মোছা করা চলছে। হয়ত ছবি মুছে নতুন করে ছবি করবে। আমি খোঁজ নিয়ে বলব”।
বিজেপির কী মত?
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরার বক্তব্য, “এতে অবাক হবার কিছুই নেই। অনুব্রত মণ্ডলের বিরোধী শিবিরই এখন বর্তমানে তৃণমূল চালাচ্ছেন, কাজল শেখের মতো লোকজনকে তিনি একসময় দমিয়ে রেখেছিলেন, কোণঠাসা করেছিলেন, উঠতে দেননি। তিনি এখন জেলে। স্বাভাবিকভাবেই জেলায় নিজেই ছবি হয়ে উঠেছেন”।





