পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের এক তরুণী নার্সের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। সিঙ্গুরের একটি নার্সিংহোমে কাজ করতেন তিনি। মাত্র কয়েক দিন আগেই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক এই ঘটনা। শুরু থেকেই মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রশ্নচিহ্ন।
মৃতার বাবার দাবি, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাঁদের ফোন করে জানান, তাঁদের মেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। রাতেই খবর পেয়ে পরিবার সেখানে ছুটে গেলেও, তাঁরা মৃতদেহ পাননি। অভিযোগ, পুলিশ দেহ সরিয়ে নিয়ে যায়, যা তাঁদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে। পরিবারের বক্তব্য, আত্মহত্যার কথা বলে আসল সত্যি আড়াল করতে চাইছে নার্সিংহোম, আসলে খুন করা হয়েছে তরুণীকে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নার্সিংহোমের মালিক এবং মৃত নার্সের প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন ওই নার্স। কিন্তু সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল। পাশাপাশি, ঘটনার দিন নার্সিংহোমের মালিকের সঙ্গেও বচসা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পুলিশ।
প্রথমে হুগলির ওয়ালশ হাসপাতালে দেহ পাঠানো হলেও পরে সেটি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। পরিবার আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ তোলে, জোর করে দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর জেরে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক শুরু হয়। শুক্রবার কলকাতা পুলিশ মর্গের সামনে সিপিএম ও বিজেপির কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। অবশেষে পরিবারের দাবিতে শনিবার সকালে কল্যাণীর অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এইমস) পাঠানো হয় দেহ।
আরও পড়ুনঃ Astrology: বৃহস্পতির গোচরে রাজকীয় জীবন: অগাস্ট শেষে বদলে যাবে এই রাশিগুলির ভাগ্য
এইমসের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছভাবে ময়নাতদন্ত চলছে। পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফি করা হচ্ছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত রয়েছেন। রাজনৈতিক চাপ ও পরিবারিক দাবির পর অবশেষে ময়নাতদন্তের স্থান পরিবর্তন হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছে পরিবার। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রিপোর্ট হাতে এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাজ্যবাসীর আশা, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নার্সের মৃত্যুর আসল রহস্য একদিন সামনে আসবেই।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!