RG KAR case : তিলোত্তমার বাবার আর্তি, নবান্ন অভিযানে মাকে আক্রমণের অভিযোগ… রাষ্ট্রপতির কড়া পদক্ষেপে কাঁপছে রাজ্য প্রশাসন!

কলকাতার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল আরজি কর-কাণ্ড। মৃত তরুণী তিলোত্তমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তাঁদের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে একাধিকবার সাহায্যের আর্জি জানানো হয়। অবশেষে সেই আবেদনেই নড়েচড়ে বসলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তবে এই ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং কেন রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠল, তার কাহিনি রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ অগস্ট তিলোত্তমার বাবা রাষ্ট্রপতির কাছে ইমেইল পাঠান। সেখানে তিনি লিখেছিলেন— তাঁদের জীবন হুমকির মুখে, স্ত্রীকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করা হয়েছে এবং বারবার অভিযোগ জানালেও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর আগে একই বিষয়ে আরও দুইবার মেইল করা হলেও কোনও উত্তর পাননি তাঁরা। তবে ১৪ অগস্ট রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে তাঁদের ইমেইলের জবাব আসে। সেখানে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি তাঁদের পাশে আছেন এবং তাঁর আপ্তসহায়ক সরাসরি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

প্রসঙ্গত, ৯ অগস্ট ছিল তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকী। সেদিন নবান্ন অভিযানে অংশ নেন তাঁর বাবা-মা। অভিযোগ, সেই আন্দোলনের মাঝেই পুলিশের হাতে আক্রান্ত হন তিলোত্তমার মা। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঠিক সেই কারণেই রাষ্ট্রপতির কাছে সরাসরি অভিযোগ পৌঁছে দেন তাঁরা। ইমেইলে পরিবারের দাবি ছিল, একদিকে তাঁদের মেয়ে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে, অন্যদিকে মৃত্যুর দিনটিতেও পথে নামলে তাঁদের উপর আক্রমণ হয়েছে— যা সহ্য করা সম্ভব নয়।

অবশেষে পরিবারের এই দীর্ঘ আর্জি পৌঁছয় রাইসিনা হিলসে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠান। সেখানে বলা হয়েছে, তিলোত্তমার পরিবার যে অভিযোগ তুলেছেন, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দ্রুত পাঠাতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা ও সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য প্রশাসনের কী পদক্ষেপ হয়েছে, তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Nandigram nurse death case update: সিঙ্গুরে নার্সের রহস্যমৃত্যু! আত্ম*হত্যা না খু*ন? পরিবারের অভিযোগে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন!

তিলোত্তমার পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন। তাঁদের দাবি, মেয়ের মৃত্যুর ন্যায্য বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপে নতুন করে আশার আলো দেখছেন তাঁরা। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কী জবাব দেওয়া হয় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন সকলের নজরে। কলকাতার এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল, এক তরুণীর মৃত্যুর পরও তাঁর পরিবারের ন্যায়ের লড়াই কতখানি কঠিন ও দীর্ঘ হতে পারে।

RELATED Articles