‘মা-বোনেরা মমতা দিদির কাছে সাহায্য চেয়ে কী পান, তৃণমূলকে কী ক্ষমা করা যায়’, সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে আমজনতার উদ্দেশে প্রশ্ন মোদীর

আজ, শুক্রবার বঙ্গ সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভা নির্বাচনের দামামা বঙ্গ থেকেই বাজালেন মোদী, এমনটাই ধারণা সকলের। এদিন আরামবাগে সভা করেন তিনি। সভায় এদিন নিজের বক্তব্যে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে একের পর এক তোপ শানান তিনি মমতা সরকারকে।

এদিন বক্তব্যের প্রথমেই ঝরঝরে বাংলা ভাষায় বড়দের প্রণাম ও ছোটোদের ভালোবাসা জানান প্রধানমন্ত্রী। সন্দেশখালি নিয়ে সুর চড়িয়ে তোপ দাগেন মমতা সরকারকে। আগেই মনে করা হয়েছিল এদিন বঙ্গ সফরে এসে সন্দেশখালি নিয়ে বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আর হলও তাই। তাঁর এদিনের বক্তব্যের অনেকটা জুড়েই ছিল সন্দেশখালি।

সন্দেশখালি প্রসঙ্গে এদিন মোদী প্রথমেই বলেন, ““বাংলার পরিস্থিতি গোটা দেশ দেখছে। মা মাটি মানুষ-এর কথা বলা তৃণমূল সন্দেশখালির বোনেদের সঙ্গে যা করেছে তা দেখে গোটা দেশ দুঃখিত, ক্ষুব্ধ। আমি বলতে পারি রাজা রামমোহন রায়ের আত্মা যেখানেই থাকুক এদের কার্যকলাপে দুঃখ হবেন”।

তাঁর সংযোজন, “যখন সন্দেশখালির বোনেরা নিজের আওয়াজ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সাহায্য চান তখন তাঁরা বদলে কী পান? তৃণমূল নেতাকে বাঁচাতে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে রাজ্য। বিজেপি নেতাদের সামনে রেখে অনেকে লড়াই করেছেন। বিজেপির চাপে কাল মানুষের ক্ষমতার সামনে ঝুঁকে ওই দোষীকে গ্রেফতার করে”।

এদিন জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, এই তৃণমূলকে আদৌ কী আর আমজনতা চায়? মোদীর আর্জি, সমস্ত অপমান, সমস্ত নির্যাতনের জবাব যেন জনতা ভোটের মাধ্যমেই দেন। এদিন তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়েও তৃণমূলকে তোপ দাগেন মোদী। বলেন, “তৃণমূলের একটাই অহংকার যে ওদের কাছে একটা নিশ্চিত ভোট ব্যাঙ্ক আছে। এবার সেই অহংকারও শেষ হয়ে যাবে। মুসলিম মা-বোনেরা তৃণমূলকে উৎখাত করবে”।

প্রসঙ্গত, এদিকে আবার আগামী ১০ মার্চ ব্রিগেডে জনসভা রয়েছে তৃণমূলের। কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এদিন বক্তব্য রাখবে তৃণমূল। সেদিন তৃণমূলের তরফে মোদীর এদিনের কথার পাল্টা জবাব দেওয়া হয় কী না, এখন সেটাই দেখার।

RELATED Articles