খাবারের গুণগত মান কেমন হয় জেলে? নিজের জেলে থাকার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে জেলের খাবার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। কারামন্ত্রী অখিল গিরি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে দাবী করেন যে জেলে খাবারের মান ভালো। সেই মন্তব্যের বিরোধিতা করেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন ভাঙড়ের বিধায়ক।
কী বললেন এদিন নওশাদ?
গতকাল, মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে জেলের খাবারের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এদিন বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে বন্দিদের খাওয়াদাওয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই রাগে ফুঁসে ওঠেন নওশাদ সিদ্দিকি। বলেন, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, জেলে বন্দিদের ৭৫ গ্রাম মাছ দেওয়ার কথা। কিন্তু তা দেওয়া হয় না।
এদিন খোঁচা দিয়েই নওশাদ বলেন, “যিনি মাছ কাটেন, তার হাত কেটে যাবে, এতটাই পাতলা হয় মাছ”। দীর্ঘ সময় জেলে ছিলেন আইএসএফ বিধায়ক। এদিন বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের জেল জীবনের অভিজ্ঞতার কথা জানান নওশাদ। এও জানান যে শীতকালে বিকেল সাড়ে চারটের সময় রাতের খাবার দেওয়া হয়। সকলের জন্য যাতে গরম ভাতের ব্যবস্থা করা হয়, সেই দাবীও তোলেন তিনি।
অভিযোগ মানতে নারাজ কারামন্ত্রী
নওশাদ সিদ্দিকির এই অভিযোগ মানতে নারাজ কারামন্ত্রী অখিল গিরি। তিনি পাল্টা জেলের খাবারের হিসাব তুলে জানান জেলে প্রতিদিন খাবারে ২৫০ গ্রাম চাল, ১০০ গ্রাম ডাল, ৩০০ গ্রাম সবজি, তার সঙ্গে ১০০ গ্রাম আলু থাকে। সপ্তাহে একদিন করে ৭৫ গ্রামের মাছ, ৭৫ গ্রামের মাংস দেওয়া হয়। থাকে ডিম, ২৫ গ্রাম সোয়াবিন।
তিনি এও জানান, শুধু এই নয়, প্রতিদিন বিকালে জল-খাবারেরও বন্দোবস্ত থাকে। বিকালে চারটে বিস্কুট-সহ চা দেওয়া হয়। টিফিনে মুড়ি দেওয়া হয়। বাদাম ও ডাল ভাজা দেওয়া হয় সঙ্গে।। যারা নিরামিষভোজী তাদের জন্য আলাদা ব্য়বস্থা রয়েছে। এমনকি ২৫০ মিলিলিটার দুধও দেওয়া হয় বলে জানান কারামন্ত্রী। কিন্তু নওশাদের দাবী, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয় না জেলে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ধর্মতলায় অশান্তির ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছিল আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে। প্রায় ৪২ দিন জেল হেফাজতে ছিলেন তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাই এদিন বিধানসভায় জানান বিধায়ক।





