শওকত মোল্লা ও আরাবুল ইসলামের সম্পর্ক যে আদায়-কাঁচকলায় যা আর কারোর অজানা নয়। দুই পক্ষের বাদানুবাদে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। কেউই একে অপরকে শানাতে বিন্দুমাত্রর কসুর করেন না। এরই মধ্যে এবার আরাবুলকে আক্রমণ করতে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসলেন পূর্ব ক্যানিংয়ের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা।
বিজয়গঞ্জ বাজারে পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে নিজের অফিস ঘর না মেলায় গত বৃহস্পতিবার গোটা দিনই খোলা আকাশের নীচে বসেই কার্যত ‘অফিস’ চালিয়েছেন আরাবুল। তাঁর এক কাজকে ‘নাটক’ বলে দাগেন শওকত মোল্লা। তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে একটি কর্মীসভা করেন তিনি। সেই সভা থেকেই আরাবুলকে নিশানা করে তিনি বলেন, পঞ্চায়েত সমিতি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তছরুপ করেছেন আরাবুল।
একথা বলতে গিয়েই শওকত মেনে নেন, তিনি কাটমানির টাকাতেই গরীবদের কম্বল বিতরণ করছেন। এর পাল্টা দিয়ে আবার আরাবুল বলেন, “শওকত যে কম্বল, গেঞ্জি, ছাতা বিতরণ করেন সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিজের পকেটে ঢোকান। শওকতের স্ত্রী, শ্যালক, ভাই সকলের নামে একাধিক কনট্রাক্টরির লাইসেন্স আছে। কনট্রাক্টরি করলে দলের পদে থাকা যায় না, এটা দলনেত্রীর নির্দেশ’।
এদিন কর্মীসভায় শওকত মোল্লাকে বলতে শোনা যায়, “একটা সময় পঞ্চায়েত সমিতিকে কনট্রাক্টররা যে পয়সা দিত সেটা কোনও এক ব্যক্তি একা নিয়ে চলে যেতেন। এখন আর তা হয় না। এখন যদি কনট্রাক্টরদের কাছ থেকে পাঁচ পয়সা কমিশন পাওয়া যায় সেটা দিয়ে আমরা গরিব মানুষকে কিছু না কিছু কিনে দিই। আমরা এই যে ৫ হাজার কম্বল দিচ্ছি সেটা ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ টাকার। এজন্য আমরা নেতাদের থেকেও পয়সা নিচ্ছি”।
আরও পড়ুনঃ ‘ব্য*র্থতার দায় সিবিআইয়ের’, সন্দীপ-অভিজিৎ জামিন পেতেই ফুঁ’সে উঠলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা, ফের বড় আন্দো*লনের ডাক, রাজপথে নামবেন?
এর পাল্টা দিয়েই আরাবুল বলেন, “ভদ্রলোক যে কথা বলছেন, ওঁর লজ্জা থাকা দরকার। ওঁর স্ত্রী, শ্যালক, ভাই, সবাই কনট্রাক্টর। উনি রাস্তার কাজের নাম করে কোটি কোটি টাকা ঘরে তুলছেন। উনি গত বর্ষায় আমার কাছ থেকে দশ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ছাতা কিনে বিতরণ করা হবে বলে। পঞ্চাশ টাকার ছাতা কিনে দুশো টাকা বিল করা হয়েছে। গেঞ্জি কেনার জন্য এক প্রোমোটারের থেকে ৮০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। যদি ১০ লক্ষ টাকার কম্বল কেনেন তবে ৯ লক্ষ পকেটে ঢোকাবেন”।





