ইন্টার্ন-পিজিটি পড়ুয়ারা বিরোধিতা করলেই ফাঁসানো হত যৌন হেনস্থার অভিযোগে, আর জি কর যেন রহস্যের ভাণ্ডার, ফাঁস সন্দীপের আরও কুকীর্তি

আর জি কর কাণ্ড নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তাল রাজ্যের পরিস্থিতি। আর জি করের প্রতিটি কোণায় যেন রহস্য ও নানান কীর্তি লুকিয়ে রয়েছে। পেঁয়াজের খোসার মতো এক এক করে সামনে আসছে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের নানান কুকীর্তির কথা। জানা গিয়েছে, কোনও পড়ুয়া যদি সন্দীপের বিরোধিতা করতেন, তাহলে তাঁকে বা তাদের মিথ্যে যৌন হেনস্থার অভিযোগে ফাঁসানো হত।

কর্মস্থলে মহিলাদের যৌন হেনস্থার বন্ধ করার জন্য আর জি করে একটি কমিটি গঠন করা হয় ২০২১ সালে। নিয়ম অনুযায়ী, স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এই কমিটিতে অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন না। এই কমিটির প্রধান ছিলেন এক অধ্যাপিকা ডঃ অঞ্জলি বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নামেই তিনি প্রধান। এই কমিটির ১৪ জন সদস্যের মধ্যে প্রথমেই যে নামটি জ্বলজ্বল করত তা ছিল সন্দীপ ঘোষের। আর দ্বিতীয় নামটি ছিল বর্তমানে বহিষ্কৃত উপাধ্যক্ষ ডঃ সঞ্জয় বশিষ্ঠের।

অভিযোগ, কোনও বিরোধী পড়ুয়াদের মিথ্যে যৌন হেনস্থার অভিযোগ দিয়ে এই কমিটির সামনে ডেকে পাঠানো হত। দিনের পর দিন চলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হত। শেষপর্যন্ত প্রবল চাপের মুখে পড়ে নতিস্বীকারও করে নিয়েছেন অনেক পড়ুয়া। অঞ্জলি বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও এই কমিটির প্রধান। তবে এই অভিযোগ নিয়ে তাঁর থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও।

জানা গিয়েছে, যে সমস্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করা হত, তাদের নামের তালিকা বানানো হত। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষদের কিছু ভরসার ছাত্রী ছিলেন। তারা ছাত্রদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করতেন মূলত। এই কমিটির সামনে সেই ছাত্রদের ডেকে এনে জোরদার প্রশ্ন করতেন  ডা.আশিস পাণ্ডে, ডা. সৌরভ মাজি, ডা.প্রণয় মাইতির মতো হাউজ স্টাফ, ইন্টার্ন বা তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়ারা।

শুধুমাত্র ছাত্ররা নন, মহিলা চিকিৎসকদেরও নানান ভাবে নানান অভিযোগে ফাঁসিয়ে সওয়াল করত এই কমিটি। জানা গিয়েছে, গত বছর মে মাসে এক মহিলা পিজিটির বিরুদ্ধে সহকর্মীদের অসহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। কমিটিতে সেই অভিযোগ জমা পড়ার পর ওই মহিলা পিজিটি চিকিৎসককে সাইকোমেট্রি টেস্ট করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে খবর। তবে কমিটির কয়েকজন সদস্য এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

আরও পড়ুনঃ ‘রাত দখল কর্মসূচিতে গিয়ে রাস্তায় বসে মাঝরাতে মদ খাচ্ছে মেয়েরা, পাহারা দিচ্ছে তৃণমূলের ছেলেরা, এটা কেমন আন্দোলন…’, বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ্যের মন্ত্রীর

এই প্রসঙ্গে এসএসকেএমের ইন্সটিউট অফ সাইকিয়াট্রির অধিকর্তা ডা. অমিত ভট্টাচার্য জানান, “কোনও ব‌্যক্তির সাইকোমেট্রি পরীক্ষার জন‌্য তার লিখিত অনুমতি দরকার। দ্বিতীয়ত এই পরীক্ষা করবেন কোনও সাইকিয়াট্রি। পরীক্ষার মাধ‌্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় তাঁর মানসিক ভারসাম‌্য”। সন্দীপ ঘোষের জন্য আর জি করে এক তরুণী চিকিৎসকের জীবন নষ্ট হতে চলেছিল। সন্দীপের এমনই কোনও অত্যাচারের শিকার হন নি তো ‘তিলোত্তমা’? এখন তো এমনই প্রশ্ন উঠছে নানান ঘটনা থেকে!

RELATED Articles