মুখ্যমন্ত্রী নয় উপমুখ্যমন্ত্রী করা হোক অভিষেককে, তৃণমূলের অন্দরেই উঠল জোরালো দাবী, বিধানসভা ভোটের আগেই ঘুরবে ‘খেলা’?

সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বেশ মুখ খুলতে শুরু করেছেন তৃণমূলের নানান নেতারা। কেউ কেউ তো আবার সর্বসমক্ষে অভিষেককেই মুখ্যমন্ত্রী বলে ঘোষণা করে ফেলছেন। কেউ আবার দাবী করছেন, অভিষেকই আগামীদিনে মুখ্যমন্ত্রী। এসবের মধ্যেই এবার অভিষেককে উপমুখ্যমন্ত্রী করার দাবী উঠল তৃণমূলের অন্দরে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে এবার সওয়াল করলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর কথায়, অভিষেককে যদি স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে দলের জন্যই তা মঙ্গল হবে। এর আগে অভিষেকের নেতৃত্ব নিয়ে সমর্থন জানিয়েছিলেন সৌগত রায়ও। তিনি বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের শেষ কথা। কিন্তু ডে টু ডে ডল চালানোর জন্য একজনকে দরকার। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে আবার সম্প্রতি তৃণমূল যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যও একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে তিনি রাজনীতির কথা সরাসরি না টানলেও তা যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েই বলা হয়েছে, তা বেশ স্পষ্ট। তিনি লেখেন, “মহেন্দ্র সিং ধোনি ক্যাপ্টেন আছেন। এখন বিরাট কোহলিকে ২ নম্বরে নামানো হোক বলে দাবি করা সমর্থকরা কি কখনো ধোনির বিরুদ্ধে? কখনোই নয়। সবার অধিকার আছে তার বেস্ট ইলেভেন সমর্থন করার”। অর্থাৎ তাঁর এই পোস্টের মাধ্যমেও তিনি অভিষেককে ২ নম্বরে অর্থাৎ উপমুখ্যমন্ত্রীর স্থানেই দেখতে চান বলেই বোঝা যাচ্ছে।

শুধু তাই-ই নয়, কিছুদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের আগের দিন তাঁকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়ে তৃণমূল ঘোষও কুণাল ঘোষও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন। লিখেছিলেন, “সময়ের নিয়মে মমতাদির পর একদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবে অভিষেক, তৃণমূল কংগ্রেসের সেনাপতি থেকে যুগান্তরের পতাকায় কাণ্ডারী। মমতাদির ঘরানার সময়োপযোগী ধারক ও বাহক। মমতাদির নেতৃত্বে চলতে থাকুক আর তার মধ্যেই আগামীর পদধ্বনি হতে থাকুক বাংলার রাজনৈতিক সামাজিক চালচিত্রে”।

বলে রাখি, ২০২৬ সালে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। এর আগেই কী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের অন্তর্ভুক্ত হবেন? বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। তিনি কী সেই দায়িত্ব তুলে দেবেন অভিষেকের হাতে, সেটা সময়ই বলবে!  

আরও পড়ুনঃ হাসপাতালে ঢুকে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে হুমকির অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে, দেওয়া হল প্রাণনাশের হুমকিও, আতঙ্ক হাসপাতাল জুড়ে

তবে অভিষেককে নিয়ে নানান তৃণমূল নেতাদের এহেন দাবীর প্রেক্ষিতে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী চান বা না চান দরজায় এসে ঠকঠক করছে পিসি আমি এসে গেছি। তৃণমূলের লোকেরা বলছে মমতার চেয়ে ভাইপো অনেক শক্তিশালী। কাজের কাজ কিছুই হবে না। শুধু ডেপুটি সিএম বা আরও বড় নেতা করার মধ্য দিয়ে ডায়মন্ড হারবার মডেলের তোলাবাজি এবং লুঠ, পশ্চিমবাংলায় চালু করার চেষ্টা চলছে”।

RELATED Articles