সত্যিই কী সেমিনার রুমই ক্রাইম সিন? তরুণীও চিকিৎসকের উপর নৃশংস অত্যাচার কী আদৌ সেমিনার রুমে চলেছিল? নাকি অন্য কোনও ঘর বা অন্য কোনও স্থান? এখন এটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সিবিআইয়ের কাছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের নজরে অর্থো ওয়ার্ড ও সেই ফ্লোর থেকে বেরোনো সিঁড়ি-লিফট। এছাড়াও নজরে ৮ তলার স্পেশাল সার্জারি বিভাগের ওটি।
আর জি করের এই ঘটনার সঙ্গে অর্থো বিভাগের কোনও যোগসূত্র আদৌ রয়েছে কী না, তা ভাবাচ্ছে সিবিআইকে। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটা জায়গার ফ্লোর ম্যাপ নিয়েছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে রয়েছে চেস্ট মেডিসিনের ফ্লোর ম্যাপ ও অর্থপেডিক বিভাগের ফ্লোর ম্যাপ।
জানা গিয়েছে, চেস্ট মেডিসিনের ফ্লোর ম্যাপের ক্ষেত্রে লিফট কমপ্লেক্স থেকে একটি রাস্তা চলে গিয়েছে। চেস্ট মেডিসিনের ওয়ার্ডের সামনে দিয়ে সেমিনার রুমের দিকের সেই রাস্তাটি ও এর সঙ্গে আরও যে তিনটি রাস্তা রয়েছে, সেই সবগুলোও এই মুহূর্তে সিবিআইয়ের আতস কাচের নীচে।
এমডিআর সংলগ্নই হচ্ছে সেমিনার রুম। আর রুমের সংযোগকারী যে রাস্তা রয়েছে বা সেখান থেকে ডায়ালিসিস ওয়ার্ডের দিকে যে রাস্তা রয়েছে, সে সব কিছুই এই মুহূর্তে সিবিআইয়ের নজরে। ওপরের দিকের কোন কোন বিল্ডিংইয়ের সঙ্গে লিফট সংযুক্ত রয়েছে, তাও ভালোভাবে দেখছেন সিবিআই আধিকারিকরা। তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে ঘটনাটি আদৌ সেমিনার রুমেই ঘটেছিল নাকি অন্য রুমে ঘটিয়ে তারপর সেমিনার রুমে যাওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেমিনার রুম থেকে পাওয়া জুতো, ল্যাপটপ, আবার তরুণীর মাথায় হাত, বিন্যস্ত চাদর এই সবকিছুই এমন প্রশ্ন তুলছে।
জানা গিয়েছে, সেমিনার রুমের বাইরে যে বন্ধ লিফট রয়েছে, সেখানে আরও একটা জায়গার যোগাযোগ রয়েছে। সেখানেও অর্থো পেডিকের কানেকশন মিলেছে। আবার অষ্টম ফ্লোরে যে এসএস ওটি রয়েছে, সেখানে অর্থোপেডিক-সহ নানান বিভাগের ওটি হয়। সেটা প্ল্যানড ওটি। বিকাল পাঁচটার পর সেই ওটি কক্ষ খোলা হয় না।
এই ওটির চাবি থাকে কর্তৃপক্ষের এক্তিয়ারভুক্ত দুটি জায়গায়। সেদিন কী ওটি কক্ষ খোলা হয়েছিল? বন্ধ লিফট কী ব্যবহার করা হয়েছিল? সেই বিষয় খতিয়ে দেখছে সিবিআই। যেভাবে তদন্ত চলছে, তাতে অর্থোপেডিকের ফ্লোর, সেমিনার রুম কক্ষের ফ্লোর, এমডিআর-এর এক্সিট, এন্ট্রি- সবটাই এখন সিবিআইয়ের নজরে।





