আর জি কর হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ভয়াবহ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা রাজ্য। গত একমাস ধরে আর জি কর কাণ্ডের এই নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েছেন বাংলার মানুষ। প্রতিবাদের ঝড় আছড়ে পড়েছে কলকাতার রাজপথ থেকে রাজ্যের সমস্ত শহরতলী এবং গ্রামের অলিতে গলিতে। ক্ষোভে ফুঁসছেন আম জনতা। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে কেঁপে উঠেছে উত্তরের দার্জিলিং থেকে দক্ষিণের কাকদ্বীপ, পশ্চিমের পুরুলিয়া থেকে পূর্বে বনগাঁ। মানুষের রাস্তায় নেমে এই প্রতিবাদ রীতিমত রূপ নিয়েছে গণ আন্দোলনের।
প্রথম থেকেই আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগের আঙুল ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই। ক্রমেই তা বেড়ে চলেছে দিন দিন। দোষীদের আড়াল করা, পুলিশকে দিয়ে প্রমাণ লোপাট প্রভৃতি অভিযোগে জর্জরিত গোটা দল। বিরোধী দলের নেতারাও এই সুযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চেয়ে গলা চড়িয়েছেন। এই কোনঠাসা অবস্থাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের উদ্দেশ্যে ‘ফোঁস’ করার বার্তা দিয়ে বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছেন।
এরপর থেকেই তৃনমূলের নেতা নেত্রীরাই বাড়িয়ে তুলেছেন দলের অস্বস্তি। সম্প্রতি লাভলি মৈত্র সোনারপুরের একটি সভা থেকে রীতিমত গুন্ডিমির সুরে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “বদল ২০১১ সালে হয়েছিল। ২০২৪ সালে এবার বদলা হবে”। হুমকির সুরে লাভলি আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে যাঁরা আঙুল তুলবেন সেটা নামানোর ব্যবস্থা করব”।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছেন জানিয়ে তার দিকে আঙ্গুল তোলা বিরোধীদের উদ্দেশ্যে লাভলি রীতিমত হুমকি দিয়ে জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে কেউ আঙুল তুললে সেটা কী করে নামাতে হয়ে আমরা খুব ভালো জানি। শান্ত আছি, কিন্তু দুর্বল নই”। এরম প্রকাশ্যে হুমকির সুরে কথা বলা পছন্দ করেননি সাধারণ মানুষ, নিন্দা হয় সমাজ মাধ্যমেও।
এর মাঝে চুঁচুড়ার বিধায়কের ওপর মিউনিসিপ্যালিটির এক মহিলা কর্মীকে বাড়িতে এনে রাখা এবং কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। বর্তমান আবহে যেখানে নারী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য গলা ফাটাচ্ছে জনতা সেখানে এই খবর অস্বস্তিতে ফেলে তৃনমূল সরকারকে। সোনারপুর হাসপাতালের একটি খবরও উঠে আসে এর মধ্যে। প্রকাশ্যে ডাক্তারের চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এক তৃণমূল নেত্রীর নামে। ওই নেত্রী নিজেকে ওই এলাকার বিধায়কের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচয় দেন। সেই জোড়েই চিকিৎসককে সরাসরি হুমকি দেন তিনি। এই ঘটনার ফলে হাসপাতালে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকল চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এবার প্রকাশ্যে এল পাটুলির এক চিকিৎসককে হুমকি দিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ। এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল কর্মী। ১১০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পাটুলি থানা এলাকায় এই কান্ড ঘটেছে। ক্রান্তি জানা নামে ওই তৃণমূল কর্মী নাকি ওই এলাকার কাউন্সিলর স্বরাজ মণ্ডলের ‘ডান হাত’ বলেই পরিচিত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ওই চিকিৎসক বরোদা পার্ক এলাকায় নিজের বাড়ি তৈরি করছেন। তিনি অভিযোগ করেন সেখানেই মোটা অঙ্কের তোলা চেয়ে বারবার হুমকি দিতে থাকে ওই তৃণমূল নেতা। এরপরই ওই চিকিৎসক পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ তদন্ত করতে নেমে ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে।





