দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান একজন মা। সন্তানকে ভালো রাখতে মা যে কনই সীমা অতিক্রম করতে পারেন। অনেক কষ্ট সহ্য করেই সন্তানকে বড় করে তোলেন মা। কিন্তু সেই সন্তানই যখন বড় হয়ে মা-কে অবহেলা করে, তার চেয়ে বড় কষ্ট বোধ হয় একজন মায়ের জন্য আর কিছু হয় না।
ফের এমনই এক ঘটনা ঘটল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের গৌরী পঞ্চায়েতের অমৃতখণ্ডের ইটাল গ্রামে। সেখানকার এক বাসিন্দা মহাদেব চক্রবর্তী নিজের গর্ভধারিণী মাকে বেধড়ক মারধর করে তাঁর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে টেনেহিঁচড়ে বের করে দিল বাড়ি থেকে। বৃদ্ধ বয়সে বিধবা মায়ের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিল গুণধর ছেলে।
ছেলের এই অকথ্য অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে রায়গঞ্জ থানার দ্বারস্থ হন বছর বাষট্টির ওই বৃদ্ধা মহিলা। ছেলে মহাদেব চক্রবর্তী ও পুত্রবধূ রুপ্পা রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ওই বৃদ্ধা। জানান যে তাঁর ছেলে ও ছেলের বউ তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন।
কী জানান ওই বৃদ্ধা?
গতকাল, শুক্রবার বিকেলে রায়গঞ্জ থানার ক্যাম্পাসে কাঁদতে কাঁদতে হাজির হন ওই বৃদ্ধা মহিলা। পুলিশকে তিনি জানান, “প্রায় তিন মাস ধরে আমার উপর অত্যাচার করছে একত্রিশ বছরের ছেলে ও বউমা। আমার জমানো দশ হাজার টাকা কেড়ে নিয়ে মারতে মারতে আজ বাড়ি থেকে বের করে দেয় ছেলে। আমার স্বামীর বাড়ির এককোণে থাকার জন্য এত অনুরোধ করলাম, কিন্তু কোন কথাই শুনল না ছেলে ও বউমা। এখন আমি কোথায় থাকব”?
এই বিষয়ে অভিযুক্ত ছেলে মহাদেব চক্রবর্তী ফোনে বলেন, “আমাদের এটা পারিবারিক ব্যাপার। কোনও কিছু বলতে চাই না”। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃদ্ধার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।





