এ যেন আগের ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। নর্থইস্ট ম্যাচেও প্রাণভোমরা গোমেজকে তুলে নেওয়ার পরেই অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে ম্যাচ হারতে হয়েছিল মহামেডানকে। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধেও সেই একইভাবে জেতা ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে গোল হজম করে ড্র করল মহামেডান। আজকেও গোমেজকে তুলে নেওয়ার পরেই অতিরিক্ত সময়ে গোয়ার হয়ে গোল শোধ করে দিলেন আর্মান্দো সাদিকু। মহামেডান দাপটের সঙ্গে ফুটবল খেলছে। আজকে মাঠে গোয়ার সব প্লেয়ারকেই ছাপিয়ে গেছে মহামেডানের প্লেয়াররা। কিন্তু তাও জয় আসছে না। অনভিজ্ঞতাই হয়ত এর মূল কারণ। আজকেও ৩ পয়েন্ট শেষ মুহূর্তে গিয়ে হাতছাড়া করল মহামেডান। আজ ফের হৃদয়ভঙ্গ হল সাদাকালো ব্রিগেডের সমর্থকদের।
ম্যাচের শুরুতেই গোয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করে মহামেডান। মাকাল ছোটে বিপদ সৃষ্টি করার জায়গায় পৌঁছে গেলেও গোয়াকে বিপদমুক্ত করেন গোয়ার গোলকিপার কাট্টিমনি। ৫ মিনিটের মাথায় গোয়ার বরিস সিং পাল্টা আক্রমণ করলে এবার মহামেডানকে বাঁচান গোলকিপার পদম ছেত্রী। ১৪ মিনিটের মাথায় ফ্রাঙ্কার প্রচেষ্টা রুখে দেন কাট্টিমনি। পরপর আক্রমণ শানাতে থাকে মহামেডান। ফের ১৮ মিনিটের মাথায় গোয়া ডিফেন্ডার নিম দর্জি মহামেডানের আক্রমণ থেকে নিজের দলকে রক্ষা করেন। ম্যাচের সব থেকে বড় সুযোগ মহামেডানের কাছে আসে ২৫ মিনিটের মাথায়। ফ্রাঙ্কার শট কাট্টিমনির হাতে লেগে পোস্টে লেগে যায়। ফের ২৯ মিনিটের মাথায় ফ্রাঙ্কার শট বাঁচান কাট্টিমনি। মহামেডান দাপটের সাথে আক্রমণ করলেও কিছুতেই খুলতে পারে না গোলের মুখ।
৩২ মিনিটের মাথায় মাকান ছোটে অ্যালেক্সি গোমেজের উদ্দেশ্যে ক্রস রাখলে তা জমা পরে কাট্টিমনির হাতে। ৩৫ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন গোয়ার নিম দর্জি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের গোয়ার দ্রাজিচ মহামেডানের কসোমভকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন । ৪৪ মিনিটের মাথায় আলেক্সি গোমেজের ফ্রি কিক প্রতিহত করে দেন কাট্টিমনি। অতিরিক্ত চার মিনিট শেষ হওয়ার পর প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-০ স্কোরে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একসাথে বেশ কিছু প্লেয়ার পরিবর্তন করেন গোয়ার কোচ ম্যানুয়েল মার্কুয়েজ। তিনি আয়ুশ ছেত্রী, নিম দর্জি, ব্রাইসনের জায়গায় মাঠে নামান আকাশ সাঙ্গওয়ান, সেরিটন এবং রাউলিন বর্জেসকে। ৫০ মিনিটের মাথায় মাকান ছোটে কাট করে গোয়ার বক্সে ঢুকে শট নেন। যদিও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ফের আক্রমণ শানায় মহামেডান। মাকান ছোটের থেকে বল পেলে ফ্রাঙ্কা গোলের বাইরে বল মারেন। ৫৯ মিনিটের মাথায় মহামেডানের প্রাণভোমরা অ্যালেক্সি গোমেজ গোলের কাছে পৌঁছে গেলেও সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৬৪ মিনিটের মাথায় ফ্রাঙ্কাকে বক্সে ফাউল করলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। পেনাল্টিতে গোল করতে ভুল করেননি সাদাকালো ব্রিগেডের প্রাণ ভোমরা অ্যালেক্সি গোমেজ। ম্যাচে মহামেডান এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। এরপর গোয়ার প্লেয়াররা চেষ্টা চালাতে থাকে গোল শোধ দেওয়ার। কিন্তু তারা সফল হয় না।
৭২ মিনিটের মাথায় ফের আক্রমণ শানায় মহামেডান। ফ্রাঙ্কার শট প্রতিহত হয়ে বাইরে চলে যায়। মহামেডানের মুহুর্মুহু আক্রমণ আঁছড়ে পড়ে গোয়ার পেনাল্টি বক্সে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ফ্রাঙ্কার হেড আটকে দেন কাট্টিমনি। এরপর ৭৫ মিনিটের মাথায় গোয়া আক্রমণ করে। বোরহার শট লুফে নেন পদম ছেত্রী। জয় গুপ্তার শট মহামেডান গোলের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
৮৫ মিনিটের মাথায় বিপদ তৈরি করে গোয়া। গোয়ার আক্রমণ কোনওরকমে রুখে লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয় মহামেডান। প্রাণভোমরা গোমেজ এবং ফ্রাঙ্কাকে তুলে অ্যাঙ্গু এবং মানজোকিকে নামান কোচ আন্দ্রে চেরনিশভ। ৮৯ মিনিটে মানজোকিকে বাজে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন রাউলিন বর্জেস। যখন ৬ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছে এর একবার আগের ম্যাচের মত গোল খেয়ে বসল মহামেডান। আর্মান্দো সাদিকু গোল করে ম্যাচ সমতায় ফেরান। ফের একবার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গিয়ে হৃদয় ভাঙল সাদাকালো ব্রিগেডের সমর্থকদের। ঘরের মাঠে জেতা ম্যাচ ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল মহামেডান প্লেয়াররা। ম্যাচের শেষে ফলাফল মহামেডান ১ এফসি গোয়া ১।





