আজকালকার দিনে অনলাইনে কী না পাওয়া যায় না! জামাকাপড় থেকে শুরু করে ওষুধপত্র, শাকসবজি, চাল, ডাল, মাছ-মাংস, ঘরের নানান জিনিসপত্র সবই মেলে অনলাইনে। কিন্তু তা বলে বোমা?
হ্যাঁ, এবার অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে বোমাও। সুতলি বোমা, কৌটো বোমা নানান ধরণের বোমার ব্যবসা চলছে রমরমিয়ে। গতকাল, মঙ্গলবার এবার সেই মূল পাণ্ডা বোমা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার মূলটি এলাকায়। ধৃতের নাম মকবুল শেখ।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই বোমা কেনাবেচা চলত অনলাইনে। বোমা বানানোর পর সেইসব ছবি অনলাইনে পাঠানো হত গ্রাহকদের। তারা নিজেদের পছন্দ মতো বোমা অর্ডার দিত। সুতলি বোমার দাম ২৫০ টাকা আর কৌটো বোমার দাম ৪৫০ টাকা। অনলাইনেই বোমার অর্ডার দিতেন গ্রাহকরা। টাকা পাঠাতে হত অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে বা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে। এরপর কুরিয়ারে ‘দুয়ারে’ পৌঁছে যেত সেই বোমা।
বেশ কিছুদিন ধরেই এই অনলাইনে বোমা ব্যবসার আঁচ পেয়েছিল পুলিশ। কিন্তু কোনওভাবেই ধরা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে গতকাল, মঙ্গলবার মূল বোমা ব্যবসায়ীর বাড়িতেই অভিযান চালায় পুলিশ।
সেখানে শৌচাগারের ছাদ থেকে নানান ধরণের একাধিক বোমা উদ্ধার হয়। বম্ব স্কোয়াডকেও খবর দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্তের মোবাইলে তল্লাশি চালাতেই আসল রহস্যের সমাধান হয়। সেখান থেকেই এই অনলাইন বোমা ব্যবসার সমস্ত তথ্য জানা যায়। এই ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। কারা এই বোমা অনলাইনে অর্ডার দিত, তা নিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে
এই ঘটনায় প্রাক্তন পুলিশ কর্তা সলিল ভট্টাচার্য বলেন, “আর সত্যিই বলার কিছু নেই। বোমা অফুরন্ত। নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে। বোমা তৈরি, অস্ত্র ব্যবসা, এখন কুটির শিল্প হয়ে গিয়েছে”।
কাটোয়া SDPO কৌশিক বসাক জানান যে দেড়মাস আগে কেরল থেকে ঘরে ফিরেছে মকবুল। তার আদি বাড়ি বর্ধমানে মন্তেশ্বরের তেঁতুলিয়া গ্রামে। কিন্তু ৭ বছর আগে সেই বাড়ি ছেড়ে দিয়েছে সে। পুলিস সূত্রে খবর, স্মার্টফোন কাজে লাগিয়ে বোমা ব্যবসা ফেঁদেছিল মকবুল। অর্ডার দিলেই সোজা বাড়িতে পৌঁছে যেত বোমা। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন যে মকবুলের বাড়ি প্রায়ই অচেনা লোকজন আসত। তাদের আত্মীয় বলেই জানতেন তাঁরা।
এই ঘটনা নিতে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি বিরোধী শিবির। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “এর চেয়ে চমৎকৃত খবর সারা বিশ্বে হয়েছে কিনা জানি না। দুয়ারে রেশন, দুয়ারে সরকারের পর দুয়ারে বোমও পৌঁছে যাচ্ছে”। তবে এর প্রেক্ষিতে আবার তৃণমূলে নতুন যোগ দেওয়া জয়প্রকাশ মজুমদারের পালটা সাফাই, “পুলিশ কাজ করছে বলেই এগুলো উদ্ধার হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিংসা দূর করার কথা বলছেন। বিজেপির কতটা ইন্ধন রয়েছে দেখতে হবে”।





