সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে থাকা এক চেনা মুখ, যাঁকে একদিকে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে জন্মদিনের কেক কাটতে, অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কোটা বিরোধী আন্দোলন (Quota Protest) এর মিছিলে নেতৃত্ব দিতে! শুনে অবাক লাগলেও এটাই এখন চর্চার বিষয় কাকদ্বীপে (Kakdwip)। দক্ষিণ ২৪ পরগণার এই এলাকার ভোটার তালিকায় থাকা এক যুবকের নাম ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—তিনি কি আদৌ ভারতের নাগরিক? নাকি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী যাঁর নাম অনৈতিকভাবে ভোটার লিস্টে তোলা হয়েছে?
সম্প্রতি নিউটন দাস নামে ওই যুবকের সঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবাশিস দাসের ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে—এক কেক কাটার অনুষ্ঠানে দেবাশিসের সঙ্গে রয়েছেন নিউটনও। আবার কাকদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ প্রামাণিক জানিয়েছেন, নিউটন খুব ভালো ছেলে। দেবাশিস দাসের দাবি, ছোটবেলার বন্ধু নিউটনের জন্মদিনে গিয়ে ছিলেন তিনি। তবে এখানেই শেষ নয়, নিউটনের উপস্থিতি বাংলাদেশের কোটা বিরোধী আন্দোলনের মিছিলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
এদিকে নিউটনের দাদা তপন দাস নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ‘‘আমার ভাই করোনার পরে ২০২০ সালে পড়াশোনা করতে ভারতে আমার কাছে এসেছিল। এখন কোথায় থাকে তা জানি না। কিভাবে তার নাম ভোটার তালিকায় উঠল, সেটাও আমার জানা নেই।’’ অন্যদিকে, নিউটনের দাবি একেবারেই উল্টো। তাঁর বক্তব্য, তিনি ২০১৪ সাল থেকেই ভারতের ভোটার। ২০১৭ সালে ভোটার কার্ড হারিয়ে গেলে স্থানীয় বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার সাহায্যে পুনরায় কার্ড তৈরি করেন।
নিউটনের আরও দাবি, চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজে বাংলাদেশে যান। সেখানেই কোটা বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনায় তৃণমূলের অস্বস্তি বেড়েছে। কাকদ্বীপের বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা অবশ্য বলেছেন, তিনি নিউটনকে চেনেন না। ফলে এই বক্তব্য আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—তবে কি রাজনৈতিক যোগসূত্রের আড়ালেই এই পুরো ঘটনা?
আরও পড়ুনঃ Donald Trump-Elon Musk: এপস্টেইন বিতর্কে ট্রাম্প-মাস্ক সম্পর্ক ভাঙল! ডেমোক্র্যাটদের পাশে দাঁড়ালে মাস্ককে কী মূল্য দিতে হবে?
ঘটনায় বিজেপি কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। দলের নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কাকদ্বীপে বহু বাংলাদেশির নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। এরা তৃণমূলের হয়ে ভোট দেয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে CAA’র আওতায় যারা যোগ্য, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। বাকিদের অসমের মতো ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে।’’ এই মন্তব্যের পর কাকদ্বীপে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এখন দেখার, প্রশাসন এই বিতর্কে কী পদক্ষেপ নেয়।





