আর জি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় এই মুহূর্তে কার্যত আগুন জ্বলছে গোটা রাজ্যে। তরুণী চিকিৎসককে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে রাস্তায় নেমে মিছিল, আন্দোলন করছেন সর্বস্তরের মানুষ। সকলের একটাই দাবী, দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে। এই ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। এবার পুলিশের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা।
মেয়েকে হারিয়ে পাথর ‘তিলোত্তমা’র মা-বাবা। সিবিআই এই ঘটনার তদন্ত করছে। কিন্তু তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। প্রথমেই কেন মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানাল পুলিশ, এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতার মা-বাবা।
তরুণী চিকিৎসকের পরিবারের দাবী, “কলকাতার সিপি-কেও সিবিআই তদন্তের আওতায় আনা হোক। বিনীত গোয়েল আমাদের সহযোগিতা করেননি। গোটা বিষয়টি তাড়াতাড়ি মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সিপি”।
সিবিআই তদন্ত নিয়েও অসন্তুষ্ট তরুণী চিকিৎসকের পরিবার। বলেন, “এখনও সঞ্জয় রায় ছাড়া আর কাউকেই গ্রেফতার করা হল না, আমরা হতাশ। প্রথম থেকেই কাউকে আড়াল করার চেষ্টা, ডিপার্টমেন্টের কেউ জড়িত থাকতে পারেন। যা ঘটেছে সঞ্জয়ের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আন্দোলনকারীদের মুখ বন্ধের চেষ্টা রাজ্য সরকারের। প্রতিবাদ বন্ধ করতেই ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে”।
তরুণী চিকিৎসকের মায়ের কথায়, “তদন্ত নিয়ে কী যে হচ্ছে বুঝতে পারছি না। এক সপ্তাহ হয়ে গেল এখন ওই সঞ্জয় রায় ছাড়া তো কাউকেই গ্রেফতার করতে পারল না। যত দিন যাচ্ছে হতাশায় ভেঙে যাচ্ছি। এরপর নিহত চিকিৎসকের মা বলেন, ‘প্রিন্সিপালকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার? কিন্তু ওঁকে তো গ্রেফতার করা হচ্ছে না? সিবিআই কী জানতে চাইছে ওঁর কাছ থেকে সেটা তো আমরা বুঝতে পারছি না”।
প্রসঙ্গত, আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার তদন্তভার রয়েছে সিবিআইয়ের উপর। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অনেককেই। সিবিআইয়ের জেরার মুখে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। আজ, সোমবারও সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছেছেন তিনি। তবে সিবিআই তদন্ত নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা।





