গতকাল, বুধবার আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে ছিল রাত দখলের কর্মসূচি। এদিন আর জি করে জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ান নির্যাতিতার মা-বাবা। সেখানেই নানান দাবী করেছিলেন তারা। এও দাবী করেছিলেন, পুলিশ তাদের টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
নির্যাতিতার বাবার দাবী করেন, তাঁর মেয়েকে যখন পাশের ঘরে শোয়ানো, সেই সময় ডিসি নর্থ তাঁকে টাকার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একদিকে যখন মেয়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে রয়েছে, সেই সময় এক সন্তানহারা বাবাকে পুলিশের টাকা অফার করাটা কতটা নিম্নমানের কাজ, তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।
এই নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সেই সময় আজ, বৃহস্পতিবার তৃণমূলের তরফে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নির্যাতিতার মা-বাবা বলছেন, পুলিশ তাদের কোনও টাকা অফার করে নি। পুলিশের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে সেই ভিডিওতে নির্যাতিতার বাবা বলছেন, “কে বলল। আমরা এরকম কিছু বলিইনি। কীভাবে বলল। এরকম কিছু ঘটেইনি”। তাহলে কী সবটাই সাজানো, এমন প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, “একদম মিথ্যা, বানানো গল্প”। কোন ঘটনাটা আসলে সত্যি, তা নিয়ে তৈরি হয় ধন্ধ। এরই মধ্যে এবার ফের এক ভিডিওতে আসল সত্যিটা জানালেন নির্যাতিতার মা-বাবা।
প্রসঙ্গত, এর আগে চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী সহ কয়েকজন চিকিৎসককে প্রথম এই টাকার অফারের কথা বলেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন সে কথা। পরে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও নির্যাতিতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে একই অভিযোগের কথা বলেন। বিরোধীদের দাবী, নির্যাতিতার বাবা মিথ্যা কথা বললে, সব ক্ষেত্রে বয়ান একই হত না।
কিন্তু তাহলে নির্যাতিতার মা-বাবা আর জি করে গিয়ে বললেন যে পুলিশ তাদের টাকা অফার করেছিল। আবার এর আগে তারা বলেছিলেন যে পুলিশ এমন কিছু করে নি, আসল সত্যিটা কী? নির্যাতিতার মা-বাবা জানালেন, গত ১১ আগস্ট রাত ১১টার সময় তাদের বাড়িতে যায় পুলিশ। আর সেই রাতেই তাদের রীতিমতো চাপ দিয়ে ভিডিও করিয়ে বলানো হয়েছিল যে পুলিশ কোনও টাকা অফার করে নি।
নির্যাতিতার বাবা জানান, “সেদিন রাতে ভিডিও করে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা যে কিছু বলিনি, এটা বলতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ চাপ দিয়েছিল। আমাদের বোঝানো হয়েছিল পুলিশের বিরুদ্ধে কথা বললে তদন্তে অসুবিধা হবে। তদন্তের ক্ষতি হবে। তখনও তো কেসটা পুলিশের হাতেই ছিল। পুলিশ তদন্ত করবে, আবার পুলিশের নামেই বদনাম করব। সেই কারণে ওই কথা বলেছিলাম”।
তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায় যে তৃণমূলের কাছে এই ভিডিও গেল কীভাবে? এও প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে আর জি করে গিয়ে তারা কেন আসল কথাটা বললেন? নির্যাতিতার মায়ের কথায়, “পরে পুলিশের গতিবিধি দেখে বুঝলাম ব্যাপারটা ওরা অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর হাইকোর্ট সিবিআইকে তদন্তভার দিল। সেই জন্যই আর জি করে পুলিশের টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের ব্যাপারটা বলেছি”।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার