মঙ্গল থেকে বুধ, তারপর বুধ থেকে আবার বৃহস্পতি। এভাবেই একটা একটা দিন করে পিছিয়ে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে আর জি কর মামলার শুনানি। এই ঘটনায় খুবই হতাশ আর জি করের মৃতা তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা। সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তারা। সরাসরি তারা কাউকে দোষারোপ করেন নি বটে, তবে শুনানি এভাবে পিছিয়ে যাওয়ায় যে তারা বেশ মনঃক্ষুণ্ণ, তা বেশ স্পষ্ট।
গত ৫ নভেম্বর ছিল সুপ্রিম কোর্টে আর জি কর মামলার শুনানির দিন। কিন্তু সেদিন শুনানি স্থগিত করে জানানো হয় বুধবার শুনানির তালিকায় সবথেকে প্রথমেই থাকবে আর জি কর মামলা। সময় দেওয়া হয়েছিল সকাল ১১টা। ফলে সকলেরই নজর ছিল সেদিকেই। কিন্তু পরে জানানো হয়, এই মামলার শুনানি হবে এদিন দুপুর ৩টে থেকে। কিন্তু সেটাও বাতিল হয়ে যায়। জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোর সময় উঠবে আর জি কর মামলা।
এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তোলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। প্রশ্ন তোলেন, এভাবেই ‘তারিখ পে তারিখ’ আর কতদিন চলবে। এদিন নির্যাতিতার বাবা জানান, “আজ আমার মেয়ে হাসপাতালে চাকরি করতে গিয়ে ধর্ষিতা হয়েছে, খুন হয়েছে। রাজ্য সরকার কী করে এর দায় এড়িয়ে যেতে পারে? আমি তো এই প্রশ্নের উত্তর পাইনি। তিন মাস হয়ে গেল। আমরা এতদিন কেঁদে ফেলতাম কথা বলতে গিয়ে। এখন আর চোখে জল আসে না। কঠোর হয়েছি আমরা। আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। আগে এভাবে কথা বলিনি। লড়াই করতে করতে আমরা কঠোর হয়েছি”।
তাঁর কথায়, “আমাদের হারানোর কিছু নেই। এখন বিচার পেতেই হবে। লোকালে রাজ্য সরকারই দেখে বিষয়গুলো। কাকে দায়ী করব? কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখেছি। আশা করি বিচার পাব। এখনও উত্তর পাইনি সেখান থেকে। কিছু পজিটিভ কথা আমাদের সঙ্গে হয়েছে”।
এদিন পথে নামার বার্তা দেন নির্যাতিতার মা। বলেন, “আমরা দেশবাসীকে বলব, আপনারা বিচারের জন্য যেভাবে আন্দোলন করছেন, লড়াই করছেন, আমরাও রাস্তায় নামব। আমাদের পাশে থাকবেন। বিচার আমরা ছিনিয়ে আনবই। আমরা মেয়ে হারিয়ে কঠিন হয়ে গেছি। আমাদের এখন রাস্তা নামতেই হবে। বিচার পেতে গেলে আন্দোলনই একমাত্র রাস্তা”।
আরও পড়ুনঃ রেখা পাত্রকে ‘মাল’ বলে কুরুচিকর মন্তব্য ফিরহাদের, কড়া শাস্তির দাবী শুভেন্দুর, তুমুল শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে!
বলে রাখা ভালো, আগামী ১০ নভেম্বর অবসর নেবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। এর আগে শুনানিতে তিনি কী জানান, আর এর জেরে এই মামলা অন্যদিকে মোড় নেয় কী না, সেটাই দেখার!





