রেখা পাত্রকে ‘মাল’ বলে কুরুচিকর মন্তব্য ফিরহাদের, কড়া শাস্তির দাবী শুভেন্দুর, তুমুল শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে!

বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা বিজেপি নেত্রী রেখা পাত্রকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে। ভোটের প্রচারে গিয়ে নিন্দনীয় ভাষায় রেখাকে আক্রমণ করেছেন ফিরহাদ, এমনটাই অভিযোগ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতার কঠোর শাস্তির দাবী করেছেন তিনি।

গতকাল, বিধবার হাড়োয়ায় বিধানসভা উপনির্বাচনের তৃণমূল প্রারতজি রবিউল ইসলামের সমর্থনে ছিল দলীয় জনসভা। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। এই অনুষ্ঠান থেকে বিজেপি ও রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, “নারী নির্যাতন নিয়ে সারা দেশের কাছে মিথ্যা প্রচার করেছে বিজেপি। সন্দেশখালির নারীদের অসম্মান করেছে বিজেপি। সন্দেশখালিতে আমার এক বন্ধু থাকে। তার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল ক‍্যানিংয়ে। বিজেপি সন্দেশখালিকে এতটাই কালিমালিপ্ত করেছে যে ক‍্যানিংয়ের লোকজন বলে, সন্দেশখালির মেয়ে মানে অপবিত্র। তাই তার বিয়ে ভেঙে যায়। তাই তার বাবাও হাঁউ হাঁউ করে কাঁদছে। বসিরহাটের যিনি বিজেপির প্রার্থী ছিলেন, সেই ভদ্রমহিলা কোথায়? এই তো হাজি নুরুলের বিরুদ্ধে কেস করেছিল। হেরো মাল। কয়েক লক্ষ ভোটে হেরে গেল। তারপরে কেস করল। বিজেপি কেস ছাড়া কিছু জানে না”।

এদিন ফিরহাদের নিশানায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। ফইরহাদ বলেন, “এটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলা। আইএসএফ, সিপিএম ও কংগ্রেস মির জাফর। যেমন ইংরেজদের ষড়যন্ত্রে শামিল হয়েছিল মির জাফর। সেরকমই বিজেপিকে পিছন থেকে সাপোর্ট করছে এই দলগুলি। বিজেপি কোনওদিন বাংলা দখল করতে পারবে না। আগামী দিনে দিল্লি বা মহারাষ্ট্রে ভোট হলে সেখানেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সারা ভারতবর্ষে তাদের অবস্থা খারাপ। লোকসভা ভোটের আগে একটা দাড়িওয়ালা লোক এসেছিল সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে মানুষকে বোঝাতে। প্রতিটা মঞ্চে কেঁদেওছিল”।

ফিরহাদের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “এভাবে একজন মহিলাকে ‘মাল’ বলে কটাক্ষ করলে তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত। তাছাড়া রেখা পাত্র তফসিলি জাতিভুক্ত। এই মন্তব্য গোটা তফসিলি সমাজকে আক্রমণ”। বিজেপি নেতার কথায়, “যে লোকটা এভাবে মহিলাকে আক্রমণ করতে পারেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করবেন সেটাই প্রত্যাশিত”।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর, জাতীয় মহিলা কমিশন, জাতীয় তফসিলি জাতি জনজাতি কমিশনেকে ট্যাগ করে অভিযোগ জানান শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারকেও ট্যাগ করেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।

আরও পড়ুনঃ সরকারি হাসপাতালে রোগীকে দেওয়া হল মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ, অবস্থার অবনতি রোগীর, ক্ষোভ জারি রোগীর পরিবারের, তুমুল শোরগোল এলাকায়

অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন রেখা পাত্রও। তিনি বলেন, “আমাকে যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, সেটা খুবই নিন্দনীয়। অপমান করা হয়েছে, তা  আমার মতো খেটে খাওয়া পরিবারের মেয়েকে অপমান করা হয়েছে। এই অপমান গোটা সন্দেশখালির মা-বোনেদের অপমান”।

RELATED Articles