২০১৯-এর লোকসভা সভা নির্বাচনে বেশ খারাপের মুখ দেখার পরই তৃণমূলের তরফে শুরু করা হয় ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচী। সেই সময় শহর তথা নানান জেলার মানুষও ফোন করে নিজের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইন নম্বরে, ফলও পাচ্ছিলেন তারা। এর জেরে সেই প্রকল্প বেশ জনপ্রিয় হয়।
এবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মুখ পোড়ার ফলে তাদের কি করা উচিত, তা বাতলে দিল তৃণমূল। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও, সেরকমই হয়েছে। তৃণমূলেরই অনুকরণে এবার বিজেপিরও ‘বাবাকে বলো’ কর্মসূচী করা উচিত বলে মন্তব্য করা হয় তৃণমূলের তরফে। এই নিয়েই শুরু হয়েছে জোর তরজা।
আরও পড়ুন- খাস কলকাতার বুকে তরুণীর হাত-পা বেঁধে গণধর্ষণ, তদন্তে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, চাঞ্চল্য গোটা এলাকায়
শুরু হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। শাসক-বিরোধীদের হট্টগোলে বেশ উত্তপ্ত বিধানসভা। এবার বিধানসভায় ফের হট্টগোলের সূচনা করেম তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিক। রাজ্যপালের ভাষণের উপর নিন্দা, পাল্টা নিন্দা চলছিলই। গত সপ্তাহে অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনই রাজ্যপালের ভাষণের মাঝে স্লোগান শুরু করে বিজেপি বিধায়করা। এর জেরে ভাষণ মাঝখানে থামিয়েই বিধানসভা ছাড়েন জগদীপ ধনখড়।
সেই বিতর্কই টেনে এদিন পার্থ ভৌমিক মন্তব্য করেন, “বিরোধী দলনেতা ইদানিং দলত্যাগ নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বলছেন, আদালতে যাব। আমরা (তৃণমূল) লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন হারিয়ে দিদিকে বলো কর্মসূচি নিয়েছিলাম। তাই এবার আমি বলি দলত্যাগ নিয়ে বিরোধী দলনেতা বাবাকে বলো কর্মসূচি নিন”। আর এই মন্তব্যের পরই উত্তাল হয় বিধানসভা।
আসলে, বিজেপির টিকিটে বিধায়ক হওয়ার পর তৃণমূলে যোগ দেন মুকুল রায়। সেই সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইনে বিচার চেয়ে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। এদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুকুলের বিধায়কপদ খারিজের জন্য স্পিকারকে চিঠিও দিয়েছেন। এর পাল্টা তৃণমূলও শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারীর সাংসদ পদ খারিজের দাবী তুলেছে। পার্থর সেই ইঙ্গিত প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী শিবিরে শুরু হয়ে যায় তুমুল হট্টগোল।
আরও পড়ুন- নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ, ৫ লক্ষ টাকার জরিমানা মমতার
এমন পরিস্থিতির পর বাধ হয়ে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির বাকী বিধায়করা। এরপর সাংবাদিক বৈঠকে পার্থর শুভেন্দুর বাবা তুলে কথা বলা নিয়ে সরব হন বিরোধী দলনেতা। তবে স্পিকার অবশ্য পার্থর এই মন্তব্যে কোনও অসংসদীয় শব্দ রয়েছে বলে মনে করেননি। তাই তা নথি থেকে বাদ দেওয়ার দাবী খারিজ করে দিয়েছেন। কারণ পার্থ ভৌমিক সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর বাবার কথা বলেননি।





