নন্দীগ্রামে যাতে পুনর্নির্বাচন হয়, সেই দাবী জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার বিচারাপতি ছিলেন কৌশিক চন্দ। কিন্তু বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে এই অভিযোগে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। অবশেষে এবার এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ।
বিচারপতিকে নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সরানোর দাবী জানানোয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৫ লক্ষ টাকার জরিমানা দিতে হবে বলে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। আদালতকে কলুষিত করার জন্য এই জরিমানা ধার্য করা হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে।
বিজেপির একটি সভায় দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বিচারপতি কৌশিক চন্দের দুটি ছবি সোশ্যাল মাধ্যমে শেয়ার করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। এরপরই বিচারপতির সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে আদালতের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে আবেদন জানান যাতে বিচারপতি কৌশিক চন্দকে এই মামলা থেকে সরানো হয়। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। তবে এরপরও তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা যেভাবে প্রতিনিয়ত বিচারপতিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন, এই কারণে সেসশ পর্যন্ত নিজেই এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি কৌশিক চন্দ।
আরও পড়ুন- একুশের ভোটের রণধ্বনি ‘খেলা হবে’ এবার পালিত হবে দিবস হিসেবে, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এদিন নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, “যদি একজন আইনজীবী কোনও দলের হয়ে দাঁড়াতে পারেন। তখন তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে না। একজন বিচারপতিও সাধারণ মানুষ। তাঁরও কাউকে ভাল লাগতে পারে। তবে কাজের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই”।
শুধু তাই-ই নয়, বিচারপতি বদলের দাবীকে ঘিরে যা যা অভিযোগ করেছেন শাসকদলের নেতা-নেত্রীরা, বুধবার সেই বিষয়টিও উল্লেখ করেন বিচারপতি। তিনি জানান, “একজনের কথা মত বিচারপতি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যান না”। এরপরই মামলাকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতকে কলুষিত করার অভিযোগ করেন তিনি। এরই সঙ্গে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। তিনি জানান করোনায় সেবামূলক কাজে ওই টাকা ব্যবহার করা হবে। তবে তৃণমূলের তরফে এই জরিমানার বিষয়টির বিরোধিতা করা হয়েছে।





