‘সিবিআই-ইডিকে আমাদের নাম কেন বলেছ’, জেলের মধ্যেই নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তৃণমূল নেতা কুন্তলকে ধমক-হুমকি পার্থ-মানিকের

ইডি-কে (Enforcement Directorate) কেন আমাদের নাম বলেছ? জেরার সময়ও নিশ্চয়ই সিবিআইকে (CBI) আমাদের নাম বলেছ। জেলের মধ্যে এভাবেই নিয়োগ দুর্নীতি (recruitment scam) কাণ্ডে ধৃত তৃণমূল যুব নেতা কুন্তল ঘোষকে (Kuntal Ghosh) রীতিমতো ধমকানি দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (Manik Bhattacharya)। তদন্তকারী আধিকারিকদের একথা জানিয়েছেন কুন্তল। বেশ ভীত ও আতঙ্কিত হয়েই একথা তিনি জানান আধিকারিকদের। সূত্রের খবর, ফের যদি কুন্তলের জেল হেফাজত হয়, তাহলে ফের তাঁকে ধমক খেতে হতে পারে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কুন্তল।

এদিকে আবার ‘কালীঘাটের কাকু’ নিয়ে অবস্থান বদল করেছেন কুন্তল। আজ, বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনে  তিনি দাবী করেন, “কাকু বলতে আমি আমার বাবার ভাইকে বুঝি। কালীঘাটের কাকুকে চিনি না”। অন্যদিকে আবার তাপস মণ্ডলের দাবী, “কুন্তল কালীঘাটের কাকু সম্পর্কে সব জানে। আমি কিছু জানি না। ওকে জিজ্ঞেস করুন”। সবমিলিয়ে ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে নিয়ে জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে।

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে প্রথমে ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন হুগলির তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ। জেরার মুখে তিনি স্বীকারও করেছিলেন যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। কুন্তলের থেকেই ইডি আধিকারিকরা জানতে পারেন যে কীভাবে দফায় দফায় নিয়োগ দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা কুন্তল পার্থর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এমনকি, দুর্নীতির টাকায় কুন্তল বেনামে যে শতাধিক গাড়ি কিনেছিলেন, তার মধ্যে অনেকগুলি গাড়িই পার্থকে দেন তিনি।

টেট পরীক্ষার্থীদের থেকে যে টাকা তুলেছিলেন কুন্তল, সেই টাকার ভাগ দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকেও, এমনটাও জানান কুন্তল। তার থেকে অনেক তথ্য পেয়ে তা আদালতে পেশও করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। নানান সংবাদমাধ্যম থেকে সেকথা জানতে পারেন পার্থ ও মানিক।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলে নিজের সেলের সামনে মাঝেমধ্যেই হাঁটাচলা করেন। কারা সূত্রে খবর, এমনই একদিন সিবিআই হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার আগে নিজের ওয়ার্ড থেকে পার্থবাবুর সেলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন কুন্তল। সেই সময় কুন্তলকে দেখতে পেয়ে তাঁকে ডাকেন পার্থ। কুন্তল যেতেই তাকে বকাবকি করতে থাকেন তিনি। কেন ইডি-কে কুন্তল তাঁর নাম বলেছে, তা জানতে চান পার্থ। কুন্তলের কথায়, ইডি তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে পারে এমন আশঙ্কা করেই কুন্তলকে দায়ী করতে থাকেন পার্থ।

আধিকারিকদের কুন্তল জানান, পার্থবাবুর ধমক খাওয়ার দু’একদিনের মধ্যে তিনি জেলে মুখোমুখি হন মানিক ভট্টাচার্যের। তিনি তদন্তকারীদের কাছে মানিকের নাম বলে দিয়েছেন, এই অভিযোগ তুলে মানিক কুন্তলকে ধমক ও হুমকি  দিয়েছেন বলে অভিযোগ কুন্তলের। বিষয়টি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, জেলের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেন কুন্তল।

জেলের কিছু আধিকারিক এই বিষয়টি জানতে পারেন। তাদের এই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে হয়। তখনকার মতো এই বিষয়টি মিটে গেলেও পরে এই বিষয়ে ফের ইডি আধিকারিকদের জানান কুন্তল। সিবিআই তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার পরও তাদের এই বিষয়ে জানান কুন্তল। আজ, বৃহস্পতিবার তাঁকে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে তোলা হচ্ছে। এদিন যদি কুন্তলের জেল হেফাজত হয়, তাহলে জেলে গিয়ে যাতে তিনি আতঙ্কে না ভোগেন, সেদিকে নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছে জেল কর্তৃপক্ষ।

RELATED Articles