চারটি পুরনিগমের ভোটের ফলাফল বেরিয়েছে আজ। যেখানে বিরোধীদের ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে তৃণমূল। দিকে দিকে সবুজ আবির এর জয়জয়কার। কিন্তু এর মাঝেই তৃণমূলে কোথাও গিয়ে খোঁচা দিচ্ছে বিক্ষুব্ধ কাঁটা। প্রথম যখন প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল তখন প্রচুর তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ জানিয়েছিলেন তাদের প্রার্থী পছন্দ হয়নি বলে। এরপর অনেক জটিলতা কাটিয়ে তৃণমূল সংশোধিত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে।
আবার তারপর থেকেই জেলায় জেলায় শুরু হয়ে যায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বিক্ষোভ। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করে দিয়েছেন। যা দলকে তীব্র অস্বস্তিতে ফেলেছে। ঠিক যেমনটা ঘটেছে দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকার ৯ নং এবং ১৫নং ওয়ার্ডে। দক্ষিণ দমদম পুরসভা থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলার সুরজিৎ রায় চৌধুরীকে ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসাবে তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন দেওয়া হয়। যেহেতু ৯ নং ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষিত সেহেতু সুরজিৎ বাবু তার স্ত্রী রীতা রায়চৌধুরীকে সেখানে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর প্রচুর চেষ্টা করেন এবং ব্যর্থ হন। এরপরই রীতা রায় চৌধুরী জোড়া পাতায় নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়েন।
আবার একই ঘটনা ঘটেছে ১৫ নং ওয়ার্ডে। এখানকার বিদায়ী কাউন্সিলর দেবাশীষ ব্যানার্জি তৃণমূলের টিকিট না পাওয়ায় নির্দল প্রার্থী হিসেবে তিনি দাঁড়িয়েছেন। এরকম রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভাতে একই ঘটনা ঘটছে। যেখানে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে তৃণমূল কর্মীরা নির্দল হিসাবে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। আর এই ঘটনা দলের অভ্যন্তরে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
এই সকল নির্দল প্রার্থী পদে দাঁড়ানো তৃণমূল কর্মীদের ওপর কড়া দৃষ্টি রয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সীদের। আজ পার্থ চট্টোপাধ্যায় কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “যারা নির্দল হিসাবে দাড়িয়েছেন তাদের অনুরোধ করেছি নাম প্রত্যাহার করে নিতে। ৪৮ ঘণ্টা এর মধ্যে দলের প্রার্থী পদের জন্য আবেদন জানাবেন তাঁরা। তারপর দলীয় ভাবে চিহ্নিত করে এবং যাঁদের আত্মীয়রা দাঁড়িয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।” সেইসঙ্গে পার্থবাবু আরও জানিয়েছেন যে, যারা বিভিন্ন জেলাতে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে রয়েছেন, তাঁরা ৪৮ ঘণ্টা বাদে নাম প্রত্যাহার না করলে তাঁদের বহিষ্কার করবেন।





