পেটে ব্যাথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। ধীরে ধীরে সুস্থও হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু তখনই ঘটল বিপদ। হাসপাতালের শৌচাগারের মধ্যেই আত্মহত্যা করলেন রোগী। কিন্তু এই মৃত্যুর ঘটনা হাসপাতালের তরফে জানানোই হল না মৃতের পরিবারকে। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফলতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মৃতের নাম সুরজিৎ চক্রবর্তী। বাড়ি শিলিগুড়ি লাগোয়া ফুলবাড়ির জামুরিভিটার ভোলা মোড় এলাকায়। একটি বেসরকারি সংস্থায় নিরাপত্তরক্ষীর কাজ করতেন সুরজিৎ। গত ১৮ই ডিসেম্বর পেটে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিনি প্যানক্রিয়াটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসায় অনেকটা সেরেও উঠেছিলেন। কিন্তু সোমবার রাতে মেল সার্জিক্য়াল ওয়ার্ড লাগোয়া শৌচাগারে যান সুরজিৎ। অনেকক্ষণ কেটে গেলেও বাইরে বেরোচ্ছিলেন না তিনি। শেষপর্যন্ত অন্য রোগীরা শৌচাগারে গিয়ে সুরজিতের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় হাসপাতালে।
মৃত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার বিষয়ে তাদের কোনও খবরই দেওয়া হয়নি। সুরজিতের স্ত্রী সরস্বতী চক্রবর্তী জানান যে তাঁর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন সোমবার মাঝরাতে কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্তও তাদের এই ঘটনা জানানো হয়নি। এই নিয়ে হাসপাতালের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, গতকাল, মঙ্গলবার সুরজিতের মা হাসপাতালে যাওয়ার পর ছেলের মৃত্যুসংবাদ পান। এত বড় খবর কেন হাসপাতালের তরফে মৃতের পরিবারকে জানানো হল না, এই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই বিষয়ে হাসপাতালের সুপারের বক্তব্য, মৃতের পরিবারের ঠিকানা নিয়ে গোলমাল হয়েছিল। এই কারণে তারা জানাতে পারেন নি। তারা থানায় খবর দিয়েছিলেন। সেখান থেকে পরিবারকে জানানোর কথা ছিল।
কিন্তু হাসপাতালের শৌচাগারের মধ্যেই এক রোগী এমন ঘটনা ঘটালেন কীভাবে? সার্জিকাল ওয়ার্ডে থাকা এক রোগী এক শৌচাগারে গেলেনই বা কী করে? আর তিনি যখন শৌচাগার থেকে বেরলেন না, তাৎক্ষনিক কেন শৌচাগারে খোঁজ করা হল না, এই নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় বারবার হাসপাতালের গাফিলতির দিকটিই উঠে আসছে।





