মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কেড়ে নেওয়া হতে পারে নার্সিংহোমের লাইসেন্স। কিন্তু তারপরেও কর্ণপাত করছে না বাংলার নার্সিংহোমগুলি। স্বাস্থ্য সাথীর কার্ডকে হেলায় উড়িয়ে দিচ্ছে তাঁরা। ফের একবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও রোগীকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার অভিযোগ উঠল বেসরকারি নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে। এবার ঘটনাটি ঘটেছে নন্দীগ্রামে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্বেও রোগীকে ফেরালো বেসরকারি নার্সিং হোম। শেষে জমি-বাড়ি বন্ধক রেখে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হল পরিবার।
বিধানসভা নির্বাচনের মুখে স্বাস্থ্য সাথীর কার্ডকে তুরুপের তাস করে আমজনতা ত্রাতা হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ চিকিৎসা ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি খরচ হয় সাধারণ মানুষের, ভোগান্তিও চূড়ান্ত হয়। আর সেখানেই বঙ্গবাসীকে সুরাহা এনে দিতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আমজনতা খুশি তো সরকারের ভোটব্যাঙ্কও খুশি।
কিন্তু সেখানেই এবার আশঙ্কার বার্তা! সঙ্কটের মুহূর্তে এই কার্ড সত্যিই আমজনতার ত্রাতা হয়ে উঠতে পারবে? উঠছে প্রশ্ন!
পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলছে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। করোনা পরিস্থিতিতেকে একপ্রকার উপেক্ষা করেই লাইনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার জানিয়েছেন, যে কোনও রোগের ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড দেখালেই বিনামূল্যে মিলবে চিকিৎসা। কিন্তু, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড থাকা সত্ত্বেও নন্দীগ্রামের ২ নম্বর ব্লকের খোদামবাড়ী ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গোপালপুর এলাকায় রোগী প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ উঠেছে।
কি অভিযোগ উঠেছে দেখে নেওয়া যাক-
ওই অঞ্চলের বাসিন্দা রতন দাসের বাবা পুলিন বিহারী দাস বেশ কিছু দিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত মঙ্গলবার পরিবারের তরফে তাঁকে প্রথমে রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে তমলুক জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু, তমলুক হাসপাতালে বেড না থাকায় পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে পুলিনবাবুকে তমলুকের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমের ভর্তি করান।
সুচিকিৎসার আশায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে তমলুকের আনন্দলোক নামের এক নার্সিংহোমে চিকিৎসার জন্য যান তাঁরা। পরিবারের অভিযোগ, কার্ড দেখেই নার্সিংহোম জানিয়ে দেয়, এই কার্ড এই রোগীর ক্ষেত্রে মূল্যহীন। এই কার্ডে চিকিৎসা করা সম্ভবপর নয়। কারণ ওই রোগীকে চিকিৎসার জন্য আইসিইউ-তে রাখতে হবে। এবং স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে আইসিইউ-তে রাখার বৈধতা নেই। এমনটাই দাবি করা হয়েছে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের তরফে। পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যস্বাথী কার্ডের টোল-ফ্রি নম্বরে যোগাযোগ করলে কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি। এর ফলে দাস পরিবারের মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়ে। শেষমেষ জমি-বাড়ি বন্ধক রেখে অর্থ সংগ্রহ বৃদ্ধির চিকিৎসা করাতে বাধ্য হয় পরিবার।





