জলাশয় ভরাটের ষড়যন্ত্র! প্রতিবাদে সরব এলাকাবাসী, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন!

বর্তমান সমাজে পরিবেশ রক্ষার চ্যালেঞ্জ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে জলাশয়, পুকুরের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে যেখানে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি, সেখানে রাতারাতি পুকুর ভরাটের ঘটনা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষা ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব প্রশাসন কতটা পালন করছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

বাঁকুড়ার তামলীবাঁধ বাগানবস্তি এলাকায় পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা গ্রাম। এলাকার একমাত্র পুকুরটি বুজিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একদিকে জলের সংকট, অন্যদিকে পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন তাঁরা। প্রশাসনের ভূমিকাও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের মুখে। তবে চমকপ্রদ তথ্য সামনে আসায় গোটা বিষয়টি এখন নতুন মোড় নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাগানবস্তি পুকুরটি রাতারাতি বুজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রথমে পুকুরটি ঘিরে ফেলা হয়। পরে ট্রলিতে করে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি, রাবিশ ও আবর্জনা এনে ধীরে ধীরে পুকুর ভরাটের কাজ শুরু হয়। এই কাজ চলতে দেখে গ্রামবাসীরা স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে অভিযোগ জানান। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, কাউন্সিলরের তরফে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ করা হয়নি। পুকুরটির বেশিরভাগ অংশ ইতিমধ্যেই বুজিয়ে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, বাঁকুড়া পুরসভাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। পুরসভা জানিয়েছে, পুকুর বুজিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের এই চেষ্টাকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুত পুকুর মালিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুকুরটি শুধুমাত্র জল সরবরাহের উৎস নয়, এটি এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এভাবে পুকুর ভরাট করা হলে পরিবেশের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে।

পুকুরের মালিক আকলিমা বিবির দাবি, তিনি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সেখানে বাড়ি তৈরি করতে চান। কিন্তু এই দাবি ঘিরেই বিতর্ক চরমে পৌঁছেছে। পুকুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুভূতির কথা মাথায় রেখে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি উঠেছে। পুকুর মালিকের এই পরিকল্পনা নিয়ে পরিবেশবিদরাও সরব হয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের কাজ শুধু পরিবেশের ক্ষতি করে না, বরং আইনের দৃষ্টিতেও অপরাধ।

আরও পড়ুনঃ ‘টাকা দিয়ে সব ঢাকা যায়’, মদন মিত্রের বিস্ফোরক বক্তব্যে আরজি কর কাণ্ডে নতুন বিতর্ক!

এই ঘটনার মোড় ঘোরে যখন জানা যায়, পুকুর ভরাটের বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলরের সম্পূর্ণ জানা ছিল। অভিযোগ, স্থানীয় কাউন্সিলর নীরব থেকেছেন এবং প্রশাসনকে সঠিকভাবে বিষয়টি জানানোর প্রয়োজনও বোধ করেননি। এই তথ্য সামনে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ আরও বেড়ে গিয়েছে। এখন পুরসভার পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles