ফের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ফর্ম বিলি নিয়ে বিপত্তি, হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট শিশু-সহ ৯ জন

ফের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ফর্ম বিলি নিয়ে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা দেখা গেল মালদহে। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে গেলেন অন্ততপক্ষে ৯ জন। এদের মধ্যে দু’জন শিশু ও চারজন মহিলা রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের। সেই অনুযায়ী রাজ্যের নানান প্রান্তে ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে। এই কারণে করোনা বিধি শিকেয় তুলে লম্বা লাইন দিচ্ছে রাজ্যবাসী। সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই লাইন পড়ছে রাজ্যের নানান প্রান্তে।

আরও পড়ুন- ‘পাগল উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি নষ্ট করে দিচ্ছে’, বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে তোপ অনুব্রতর

সেরকমই আজ, বুধবার সকালে এই প্রকল্পের ফর্ম বিলির জন্য লাইন পড়ে মালদহের সাহাপুর স্কুলের সামনে। জানা গিয়েছে, বেলা ১১টা থেকে ফর্ম দেওয়ার কথা থাকলেপ নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও স্কুলের দরজা খোলা হয় নি। এরই মধ্যে অভিযোগ ওঠে, ভিতরে তৃণমূলের নেতাদের ফর্ম দেওয়া হচ্ছে। এরপরই রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন। দরজায় অনবরত ধাক্কা দিতে থাকেন তারা। এরপর দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে ঢুকতে থাকেন সকলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবী, পুলিশ এই ক্ষিপ্ত জনতাকে সামলাতে হিমশিম খায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঢোকার সময় ধাক্কাধাক্কির জেরে পড়ে যায় কয়েকজন। তাদের সাহায্য না করেই তাদের উপর দিয়েই চলে যায় লোকজন। যার জেরে চোট লাগে পদপিষ্টদের। এই ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

এই ঘটনায় বিজেপির জেলা সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল বলেন, “কার্যত যমের দুয়ারে সরকার। পুলিশ প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। যদি সম্ভব হয় তাহলে পুলিশ দিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফর্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। মৃত্যুর দিকে এ ভাবে মানুষকে ঠেলে দেওয়া বন্ধ করুক”। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কোভিড শুধু বিজেপির জন্য, এ ক্ষেত্রে কোনও কোভিড নেই”।

আরও পড়ুন- ‘মুকুল রায়ের বিধানসভায় ঢোকার কোনও মুখ নেই’, প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সকাল সকাল মুকুলকে তোপ দিলীপের

এই বিষয়ে শাসকদলকে তোপ দেগেছেন রাজ্য বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারও। তিনি বলেন, “এই নিদারূন ঘটনার দায় তৃনমূল সরকারের। অমানবিক, অপদার্থ সরকার লোভ দেখিয়ে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি করছে। মানুষের পকেটে পয়সা নেই, খাবার নেই তাই তারা লাইন দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে”।

RELATED Articles