মুকুল রায় যে কী খেলা খেলছেন বা তিনি আদপে কী চাইছেন, তা বুঝেই উঠতে পারছে না বঙ্গ বিজেপি। এই কারণে এবার সরাসরি আক্রমণ ছাড়া গতি নেই। আর সেই পথই অবলম্বন করলেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। এমনিতেই মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করতে আদাজল খেয়ে লেগে পড়েছে বিজেপি। এই নিয়ে বিধানসভাতে শুনানিও চলছে।
এই নিয়ে বিধানসভায় চিঠি দিয়েছেন মুকুল রায়। প্রথমে চিঠিতে তাঁর বয়স ও তাইখ উল্লেখ না থাকায়, তা বাতিল হয়ে যায়। আর এরপরই বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে তিনি একমাসের সময় চেয়ে। এর জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে শুভেন্দু অধিকারী-দিলীপ ঘোষরা।
স্পিকারকে চিঠি দিয়ে বিধায়ক পদ খারিজের শুনানি এড়িয়েছেন মুকুল রায়। এই পরিস্থিতিতে এবার তাঁকে সরাসরি তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেই দিলেন, “মুকুল রায়ের বিধানসভায় যাওয়ার মুখ নেই”।
গতকাল, মঙ্গলবার বিধানসভায় মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের শুনানি ছিল। কিন্তু এদিন চিঠি দিয়ে মুকুল রায় জানান যে এই বিষয়ে যা বলার তিনি একমাস পর বলবেন। এর জেরে তখনই শেষ হয়ে যায় বিধানসভার শুনানি। স্পিকার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ঘোষণা করেন। কিন্তু এই বিষয়টি মোটেই ভালোভাবে নেন নি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এই বিষয়ে শুভেন্দু বলেন, “দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে সংবিধানে নির্দিষ্ট ধারা রয়েছে। যেখানে খুব স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সমাধান করতে হবে। আমরা আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টে যাচ্ছি”। তবে হাইকোর্টের এই হুমকিতেও একটুও বিচলিত হন নি মুকুল রায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুকুল রায় এই চিঠি দিয়ে এখন মজা দেখছেন।
আরও পড়ুন- আদিবাসী বৃদ্ধাকে মারধর, গলা টিপে জোর করে আঙুলের ছাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা তুলল তৃণমূল
আজ বুধবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মুকুল রায় বিধানসভা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ওঁর ওখানে যাওয়ার মুখ নেই। তাই এড়িয়ে যাচ্ছেন। মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আমরা আইনি পথে যাব। ওঁ কোনও চাপে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়েছেন”।
এদিন বিধানসভার স্পিকারকেও রীতিমতো তোপ দাগেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বলেন, “স্পিকারও দু’বছর লাগিয়ে দিলেন। সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না। যাঁরা দলত্যাগ করেছেন, এই ব্যাপারেও তাই করছেন”।
এদিন তারকা প্রার্থীদের নিয়ে দিলীপ বলেন, “সেলিব্রেটিরা তো আন্দোলন করেন না, মারও খান না। তাঁরা শোভা বাড়ান। আমাদের দলের শোভা বাড়ানোর জন্যও নাম হয়েছিল। যাঁরা পার্টির আদর্শের সঙ্গে যুক্ত হতে চান, তাঁরা রয়েছেন। যাঁরা এসেছিলেন বিশেষ পরিস্থিতিতে, তাঁরা মনে করছেন থাকাটা ঠিক হচ্ছে না। আমরাও ঝামেলায় তাঁদের ডাকি না”।





