Dhulian Shopping Mall Loot : এবার কি ওয়াকফ-বিক্ষোভের আড়ালে লুকিয়ে মৃত্যু-ফাঁদ? শপিং মলে হঠাৎ তাণ্ডব, ভয়ে কাঁপছে ধুলিয়ান

সপ্তাহের শেষে একটু রিল্যাক্স করতে কে না চায়? পরিবার নিয়ে শপিংয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন ধুলিয়ানের অনেকেই। কেউ গরমের ছুটির আগে কেনাকাটায় ব্যস্ত, কেউ বা আবার নববর্ষ উপলক্ষে মলের ডিসকাউন্টের খোঁজে। কিন্তু সেই শান্ত দুপুর আচমকাই বদলে গেল বিভীষিকায়। সাধারণ মানুষ যাঁরা তখন মলের ভেতরে, তাঁদের চোখের সামনেই শুরু হল এক অভূতপূর্ব ভয়াবহতা, যা হয়তো তাঁরা কোনওদিন ভুলতে পারবেন না।

সম্প্রতি ওয়াকফ আইন সংশোধনের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও সুতি এলাকা। শুক্রবার থেকেই শুরু হওয়া উত্তেজনা শনিবার আরও ভয়ানক চেহারা নেয়। এদিন সকাল থেকেই ধুলিয়ান মোড়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। কেউ কেউ বলছেন, এই ধরণের প্রতিবাদ যদি ধ্বংস ও লুটপাটে পরিণত হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

শনিবার দুপুরে সংঘর্ষের মাঝেই একটি বড় শপিং মলে আচমকা হামলা চালায় একদল উত্তেজিত জনতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মলের একের পর এক বিভাগে ঢুকে তারা শুরু করে লুটপাট ও ভাঙচুর। দোকানদারদের সামনেই পণ্য লুঠ করে নেওয়া হয়। কর্মীরা আতঙ্কে পালাতে শুরু করেন। পুলিশের পৌঁছনোর আগেই কার্যত তছনছ হয়ে যায় গোটা মল। যদিও পুলিশ এসে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে, তবে এতক্ষণে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কর্মীদের মানসিক ভীতিও তীব্র হয়ে ওঠে।

শুধু মল নয়, আশপাশের দোকানগুলিতেও চালানো হয় হামলা। স্থানীয় সূত্রে খবর, ধুলিয়ান মোড় সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক পর্যন্ত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। রাস্তার পাশে পোড়া গাড়ি, ছেঁড়া ব্যানার ও দোকানের ভাঙা কাঁচ যেন প্রমাণ দিচ্ছিল – এখানেও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বলে কিছু হয়নি। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়ে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনে। বাসিন্দাদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালীন বোমা ও গুলির আওয়াজও শোনা গেছে।

আরও পড়ুনঃ Weather update : আকাশে গর্জন, বাতাসে ঝড়ের আভাস! আজই কলকাতায় নামছে ভয়ংকর বৃষ্টি? জারি হল বিশেষ সতর্কতা

শনিবার সামশেরগঞ্জ ও সুতিতে চরম থমথমে পরিবেশ দেখা যায়। পুড়ে যাওয়া বাস, অ্যাম্বুল্যান্স, গাড়ি – সবকিছুই জানিয়ে দিচ্ছিল গতকালের ভয়াবহতা। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে উঠেছিল যে জেলা প্রশাসন বিএসএফ-এর সহযোগিতা চায়। বিএসএফ-এর সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি নীলোৎপল কুমার পাণ্ডে জানান, জেলা প্রশাসনের অনুরোধে দ্রুত বাহিনী পাঠানো হয়। ইতিমধ্যেই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ। ধৃতদের অধিকাংশই সামশেরগঞ্জ ও সুতির বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—একটা প্রতিবাদ কি লুটপাটের মাধ্যম হতে পারে?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles