গত ২১শে এপ্রিল মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা সাংবাদিক বৈঠকে জানান, কোভিড হাসপাতালে কোনওভাবেই মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। কোনো ডাক্তার, নার্স কিংবা চিকিৎসাধীন ব্যক্তি হাসপাতালে ঢোকার আগে নির্দিষ্ট স্থানে মোবাইল জমা রাখবেন এর পরিবর্তে তাদের একটি রশিদ দেওয়া হবে। যাবার সময় ওই রশিদ দেখিয়ে তারা তাদের ফোন সংগ্রহ করতে পারবেন। এবার এই নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হলো হাইকোর্টে।
হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা নবেন্দু কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। অতি জরুরি শুনানির মামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এই মামলাটিকে। তাই আজ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মামলটির শুনানি শুরু হয়। সেই মামলায় এবার ৭ মে-র মধ্যে রাজ্যকে নির্দেশিকার পক্ষে নিজেদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকেও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাকারীর আইনজীবী অরিজিৎ বক্সী জানিয়েছেন, আজ হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি মামলাটি শোনেন এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকে মামলার কাগজপত্র জমা করতে নির্দেশ দেন।
মামলাকারীর বক্তব্য, মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনও গাইডলাইন দেননি। তাছাড়া সম্প্রতি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের পর পর ২টি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, কোভিড-১৯ এ মৃত রোগীদের নিয়ে কী করা হচ্ছে! এরপরই তড়িঘড়ি এই নিয়ম চালু করা হয় যাতে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই দুরাবস্থার কথা কেউ জানতে না পারে। রাজ্যের অবস্থা ধামাচাপা দিতেই রাজ্য হাসপাতালে মোবাইল নিষিদ্ধ করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের হাসপাতালে মোবাইল বন্ধের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের মামলা দায়ের করেছেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংও। রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকা মহামারী আইন পরিপন্থী নয় বলে দাবি করেছেন ব্যারাকপুরের এই সাংসদ।





