রামদেব-মেহুল চোকসির মত ঋণখেলাপির ৬৮ হাজার কোটি টাকা মকুব রিজার্ভ ব্যাংক-এর, দেশজুড়ে সমালোচনা

একদিকে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ খেতে পাচ্ছেন না এই কঠিন পরিস্থিতিতে অন্যদিকে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত শিল্পপতিদের কোটি কোটি টাকা ঋণ মকুব করছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশবাসী।

মারণ করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় বেলাইন হওয়ার পথে অর্থনীতি। এরই মধ্যে এক RTI (Right to Information)-এর উত্তরে চাঞ্চল্যকর এই ঋণ মকুবের তথ্য প্রকাশ করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে রিজার্ভ ব্যাংক। দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপীদের প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ স্রেফ মকুব করে দেওয়া হয়েছে। ঋণখেলাপিদের তালিকায় এমন বেশ কয়েকজনের নাম আছে যাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে তদন্ত চলছে। নামগুলো শুনলেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ জমতে বাধ্য, মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়ার মত শিল্পপতি এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

সাকেত গোখলে নামে এক ব্যক্তি দেশের শীর্ষ ৫০ জন ঋণখেলাপির নাম এবং তাঁদের বর্তমান ঋণের পরিমাণ জানতে চেয়ে একটি RTI ফাইল করেন। যার উত্তরে শীর্ষ ব্যাংক জানিয়েছেন, “শীর্ষ ৫০ জন ঋণখেলাপির কাছে ৬৮ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা পাওনা আছে ব্যাংকগুলির।” এই তালিকায় সবার উপরে আছে বিতর্কিত অলংকার ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির নাম। স্রেফ চোকসিরই ৫ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা মকুব করেছে আরবিআই। দ্বিতীয় স্থানে REI Agro’র দুই ডিরেক্টর সঞ্জয় এবং সন্দীপ ঝুনঝুনওয়ালা। তাঁদের মোট ৪ হাজার ৩১৪ কোটি টাকার ঋণ মকুব করা হয়েছে। আরেক অলংকার ব্যবসায়ী যতীন মেহেতার প্রায় ৪ হাজার ৭৬ কোটি টাকা মকুব করা হয়েছে। তালিকায় আছে বাবা রামদেব (Baba RamDev) এবং আচার্য বালাকৃষ্ণর সংস্থা রুচি সোয়া ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডও। তাঁদের প্রায় ২ হাজার ২১২ কোটি টাকা মকুব করা হয়েছে।

সাকেত গোখলে বলছেন, “গত বাজেট সেশনে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের কাছে এই তথ্য জানতে চান। কিন্তু তখন তারা এই তথ্য দিতে চাননি। আমাকে এই তথ্য দিল রিজার্ভ ব্যাংক।”

সাকেত আরও বলেছেন, “৫০ জন ব্যবসায়ীর মোট ঋণখেলাপির পরিমাণ ৬৮ হাজার কোটি। যা কিনা বিশ্ব

ব্যাংক থেকে ভারত যে টাকা করোনার জন্য ধার নিয়েছে তার ৮ গুণ। ভারত করোনা রুখতে যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তার ৩০ শতাংশ। ৪৫ হাজার কোভিড টেস্টিং কিটের দামের সমান।”

RELATED Articles

Leave a Comment