রাজ্যের ছাত্র রাজনীতিতে ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (AIDSO) ২ মার্চ রাজ্যব্যাপী ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়। সংগঠনের দাবি, শিক্ষা ক্ষেত্রে বঞ্চনা, আরএসএফ কর্মীর ওপর মন্ত্রীর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলির প্রতিবাদেই তাঁদের এই আন্দোলন। তবে, মেদিনীপুরে এই আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মেদিনীপুরে শান্তিপূর্ণভাবে পথ অবরোধ করছিলেন AIDSO-এর সদস্যরা। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীরা অনুমতি ছাড়া জমায়েত করেছিল, ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ব্যবস্থা নিতে হয়। তবে আন্দোলনকারীদের পাল্টা অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় পুলিশ তাঁদের উপর চড়াও হয় এবং বলপ্রয়োগ করে। ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, বিশেষত মহিলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়।
এই ঘটনায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়, যখন AIDSO-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, ২ মার্চ আটক বিক্ষোভকারীদের মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য, পুলিশের অফিসার ইন চার্জ (ওসি) নিজে মহিলা কর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। অভিযোগ, তাঁদের শরীরে গরম মোম ঢেলে দেওয়া হয়, বেল্ট খুলে মারধর করা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এই ঘটনার পর বেশ কয়েকজন মহিলা গুরুতর আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল, তাই তাঁদের সরাতে কিছুটা শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। তবে থানার মধ্যে কোনও নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন। যদিও ঘটনার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ২০৫০ সালের ভবিষ্যদ্বাণী ঘুম কাড়াবে হিন্দুদের! ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা হবে সর্বাধিক?
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও মানবাধিকার কমিশন। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি তুলেছে। ইতিমধ্যেই কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ভূমিকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং যদি নির্যাতনের অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





