বাঁকুড়ার নতুনগঞ্জ যেন হঠাৎ করেই রাতের নিস্তব্ধতা হারিয়ে ফেলেছিল। অন্ধকার ঘুমন্ত শহরে আচমকা আলো, হাঁকডাক আর তুমুল চাঞ্চল্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে মুখে তখন বিস্ময়— কী ঘটছে এত রাতে? অনেকেই জানতেন না যে বিজেপির জেলা কার্যালয় ঘিরেই ছড়িয়ে পড়ছে এমন উত্তেজনা, যার সূত্রপাত পুলিশের আচরণকে কেন্দ্র করে।
শনিবার দিন পেরিয়ে রাত প্রায় ২টো। অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ের গেটে তালা লাগিয়ে কর্মীরা বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু গভীর রাতে স্থানীয় সূত্রে খবর আসে, বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়ে গেটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালাচ্ছে। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। তাঁরা দাবি করেন, কোনওরকম আগাম নোটিশ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ এভাবে অভিযান চালিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। পুলিশের পক্ষ থেকে যদিও এখনও পরিষ্কারভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে বিজেপির পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে যে, খাতড়ায় রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীর স্বামী তুহিন মান্ডির উপর হওয়া হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকে খুঁজতেই পুলিশ এই তল্লাশি চালিয়েছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রশাসন পরিকল্পিত ভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসতেই বিজেপির একাধিক নেতা-কর্মী নতুনগঞ্জের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, দলীয় কার্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিল ভাঙা হয়েছে, কাগজপত্র নষ্ট করা হয়েছে। এই ঘটনায় রবিবার বাঁকুড়া শহরে বড়সড় প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও না উত্তপ্ত হয়, সেই কারণে প্রশাসনের তরফে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Kedarnath Accident: ৬ সপ্তাহে পঞ্চম বিমান দুর্ঘটনা! গুপ্তকাশির পথে ভয়াবহ ভেঙে পড়ল যাত্রীবাহী উড়ান, শিশুকন্যাসহ মৃ*ত ৭!
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন পুলিশের পদক্ষেপের। তাঁর কথায়, “রাজ্য সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। এটা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।” বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ধীরে ধীরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





