স্কুলে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে প্রতারণা, পুলিশের জালে শিলিগুড়ির এক স্কুল শিক্ষক

চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে প্রতারণার অভিযোগ। এই অভিযোগে আরও এক শিক্ষককে গ্রেফতার করল জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ। গতকাল, শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির হাকিমপাড়া থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে শিলিগুড়ি রথখোলা রবদাকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কৃত শিক্ষক পঙ্কজ বর্মণকে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১০ জানুয়ারি এই একই অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন জলপাইগুড়ি আমবাড়ির চিন্তামোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষক সন্তোষ বর্মণ। আজ, শনিবারই তাঁর ১০ দিনের জেল হেফাজত শেষ হচ্ছে। ওই শিক্ষককে জেরা করেই এই প্রতারণা চক্রে যুক্ত আরও এক শিক্ষক পঙ্কজ বর্মণের খোঁজ পেয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ওই অভিযুক্ত শিক্ষক বছর তিনেক আগে প্রাথমিক স্কুলে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে ১০ জন বেকার যুবকের থেকে ১৭ লক্ষ টাকা হাতিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি জোটে নি। ওই যুবকরা টাকা ফেরত চাইলে তাদের দীর্ঘদিন ধরে ঘুরিয়ে যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক।

অন্যতম অভিযোগকারী বাপ্পা মালাকার জানান প্রাথমিকে চাকরি দেওয়ার নাম করে তিন বছর আগে আমবাড়ি চিন্তামোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষক সন্তোষ বর্মণ ১০ জনের থেকে ১৭ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি না পেয়ে তারা টাকা ফেরত চাইলে টাকা দেওয়া হচ্ছিল না তাদের। ওই শিক্ষককে কিছুদিন আগে হাতে পেয়ে তাঁকে আটক করে রেখেছিলেন অভিযোগকারীরা। পরবর্তীতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে।  

সূত্রের খবর, ২০০৯ সালে শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন কোচবিহারের বাসিন্দা অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। আমবাড়ি চিন্তামোহন হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। কয়েক বছর আগে শিলিগুড়ি সংলগ্ন আশিঘর এলাকায় তিনি বাড়ি বানান। বাড়ি, গাড়ি সবই রয়েছে তাঁর। চাকরিপ্রার্থীদের দাবী, গত কয়েক বছরে তাঁর জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন এসেছে।

অভিযোগকারী বাপ্পা মালাকার জানান, চাকরি দেওয়ার নাম করে ওই শিক্ষক দেড় কোটি টাকারও বেশি তুলেছেন। ওই প্রতারণা চক্রে ওই শিক্ষকের সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছেন বলে দাবী বাপ্পার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সন্তোষের পর এবার পঙ্কজ বর্মনকেও গ্রেফতার করল পুলিশ। আজ, শনিবার আদালতে তোলা হবে ধৃতকে। তাকে জেরা করে প্রতারণা চক্র সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলেই অনুমান তদন্তকারীদের।

RELATED Articles