চরম নৃশংসতার চিত্র ধরা পড়ল বঙ্গে। পোষা কুকুরত দিয়ে হনুমানকে আক্রমণ। তারপর তাকে পিটিয়ে খু’ন। তারপর সেই হনুমানের মাংস দিয়েই পিকনিকের প্রস্তুতি করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হল তিনজনকে।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার বলরামপুর রেঞ্জের বেড়শা গ্রামের শিকারি পাড়ায়। জানা গিয়েছে, গতকাল, রবিবার সকালে একদল যুবক অযোধ্যা পাহাড়ের জঙ্গলে শিকার করতে যায়। পোষা কুকুর ঘিরে ধরে একটি হনুমানকে পিটিয়ে খুন করে শিকারির ওই দলটি। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ শ্রেণির শিডিউল ২-এ ছিল ওই হনুমানটি। মেরে ফেলার পর পরে ভুরিভোজের প্রস্তুতির জন্য ওই হনুমানের মাংস টুকরো টুকরো করছিল তারা। ঠিক ওই সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেড়শা সংলগ্ন অযোধ্যা পাহাড়ে হানা দেয় বন দফতরের আধিকারিকরা।
পুরুলিয়া ডিভিশনের এডিএফও সায়নী নন্দীর নেতৃত্বে এই অভিযান হয়। সঙ্গে ছিলেন বলরামপুর রেঞ্জের আধিকারিক অপূর্ব মাহান্তি-সহ বেশ কয়েকজন আধিকারিক। অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শুকদেব শিকারি, গোপাল শিকারি ও লক্ষণ শিকারি।
বন দফতরের আধিকারিকরা কী দেখেন সেখানে গিয়ে?
সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক বসে ছুরি, বঁটি ইত্যাদি দিয়ে মাংস কেটে ধুচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বন দফতরের আধিকারিকরা প্রায় পাঁচ কেজি কাটা মাংস, কয়েকটি অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে তা। যে ছুরি এবং বঁটি দিয়ে মাংস কাটা হচ্ছিল, সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
এরপরেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেন বন দফতরের আধিকারিকরা। তাদের কথায় অসঙ্গতি মেলে। পরে তাদের বলরামপুর রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে এসে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে ঘটনার কথা স্বীকার করে ধৃতরা। এরপরই তাদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল, সোমবার ধৃতদের পুরুলিয়া আদালতে তোলা হলে তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয়।
এই ঘটনায় পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও কার্তিকায়েন এম বলেন, “হনুমানকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ওয়াইল্ড লাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্টে মামলা রুজু করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত মাংস ফরেনসিক টেস্টে পাঠানো হবে”।





