প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের জামাই-সহ ১১ জনের থেকে ৮৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার তৃণমূল উপপ্রধান

ছাড়লেন না নিজের জামাইকেও। প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক ব্যক্তির থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে প্রতারণার অভিযোগ। এই ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থেকে পুলিশ গ্রেফতার করল তৃণমূল উপপ্রধানকে।

জানা গিয়েছে, গতকাল, মঙ্গলবার রাতে মঙ্গলকোটের ঝিলু ২ নম্বর গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান হেকমত আলিকে গ্রেফতার করে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। বীরভূমের কীর্ণাহারের বাসিন্দা মহম্মদ বদরুদ্দোজা নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় ওই তৃণমূল উপপ্রধানকে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এই হেকমত আলি নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের জামাই-সহ ১১ জনকে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এর জন্য সকলের থেকে মোট ৮২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা নেন তৃণমূল উপপ্রধান। এমনকি, তিনি পাঁচজনকে ভুয়ো নিয়োগপত্রও দিয়েছেন বলে দাবী।

এই ঘটনায় মঙ্গলকোটের তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী জানান, “অভিযোগকারী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে পুলিশে অভিযোগ করতে বলেছিলাম। পুলিশ তদন্ত শুরু করছে”।

এদিকে, হেকমত আলির মেয়ে জিন্নাতুন নিশার দাবী, পারিবারিক বিবাদের ঘটনার জেরে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে এই প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে ৮৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবী করেন হেকমত আলির মেয়ে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির বর্ধমান জেলা সভাপতি গোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তদন্ত করলে আরো অনেক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার নাম উঠে আসবে”।

আরও অন্যান্য খবর