গতকাল বিকেল পাঁচটা থেকেই লকডাউন কার্যকর হয়েছে রাজ্যে। তার মধ্যেই রাস্তায় বেরিয়ে আড্ডা দেওয়া বা জটলা করার জন্য গতকাল রাতেই খাস কলকাতায় ২৫৫ জনকে আটক করেছিল কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে বসিরহাটের ইটিন্ডা রোডে রেজিস্ট্রি অফিসের মোড়ে অটো-টোটোতে চেপে লোককে যাতায়াত করতে দেখা যায়। তা দেখামাত্রই কর্তব্যরত পুলিশ কর্তারা লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যান। কাটোয়াতেও ছবিটা এক। সেখানে লকডাউন অমান্য করে অবাধে রাস্তায় ঘুরে বেরানো লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পুলিশ। কমবেশি ৪১ জনকে আটক করা হয়। সেই সঙ্গে টোটো, অটো, রিকশা এবং বেশ কয়েকটি মোটরবাইক আটক করে পুলিশ।
দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও আবার লক ডাউন ভাঙায় কান ধরে ওঠ বোস বা নিল ডাউন করিয়ে রাখে পুলিশ। মঙ্গলবার লক ডাউন ভাঙা মানুষদের প্রতি পুলিশের বিচারে সাধারণ মানুষের গরিষ্ঠ অংশই সন্তুষ্ট।
অনেকেরই মত হল, লক ডাউন যাতে ষোল আনা সফল হয় সে জন্য পুলিশের এতোটাই সক্রিয় থাকা উচিত। কারণ, লক ডাউন সত্ত্বেও যাঁরা রাস্তায় বেরোচ্ছেন তাঁরা নিজে ঝুঁকি তো নিচ্ছেনই বাকিদের তথা গোটা সমাজকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। সুতরাং কাউকেই রেয়াত করা মোটেই উচিত নয়।
গত পরশু নবান্নের তরফে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, সমস্ত রকম গণ পরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে লক ডাউনে। অর্থাৎ ট্যাক্সি, অটো, টোটোও রাস্তায় বেরোতে পারবে না। সেই সঙ্গে রাস্তায় নেমে এক সঙ্গে চার জনের বেশি মানুষ জটলা করতে পারবেন না। কিন্তু তার পরেও বহু রাজ্যবাসীর টনক যে নড়েনি তাও বোঝা যাচ্ছে। অনেকের মধ্যে ভাবটা এমনই যে, স্কুল-কলেজ-অফিস ছুটি ফলে এখন চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া যায়। জেলা ও মফস্বল এলাকায় কোথাও কোথাও চায়ের দোকানে, ক্লাব ঘরে, রোয়াকে আড্ডা জমেছে। কোথাও বা খেলা হচ্ছে ফুটবল!
প্রসঙ্গত, গতকাল সকালেই সমস্ত রাজ্য সরকারকে বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, লক ডাউন সফল করতে রাজ্য সরকারগুলি যেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। মহামারী নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা রয়েছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ রাস্তায় বেরোলে তাঁর হাজতবাস ও জরিমানা দুটোই হতে পারে।





