রাজ্যে একাধিক দুর্নীতির জেরে এই মুহূর্তে জেলবন্দি শাসক দল তৃণমূলের একাধিক নেতা ও মন্ত্রী। এরই মাঝে এবার ফের উঠে এল দুর্নীতির খবর। কয়লা, শিক্ষা, রেশনের পর এবার সার নিয়ে দুর্নীতি অভিযোগ উঠল। কালোবাজারি রুখতে এবার তাই পদক্ষেপ নিল পুলিশ।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
আলুর মরশুমে যাতে সার নিয়ে কোনও কালোবাজারি না হয়, সেই কারণে এবার হুগলির সিঙ্গুরের একাধিক সারের দোকানে হানা দেয় হুগলি পুলিশ। হুগলির জেলা গ্রামীণ পুলিশের ডিএসপি নিমাই চৌধুরীর নেতৃত্বে এই অভিযান চলে। আসলে, বেশ কিছুদিন ধরেই হুগলির নানান ব্লকের সারের দোকানগুলির বিরুদ্ধে কালোবাজারি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ আসছিল। একদিকে অভিযোগ যে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। আর অন্যদিকে এও অভিযোগ ওঠে যে গুদামে সার মজুত করে রেখে কৃত্রিমভাবে চাহিদা বাড়িয়ে দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পরই সারের দোকানে হানা দেয় পুলিশ।
এদিন দোকানে দোকানে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকরা যাচাই করে দেখেন যে নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে কী না। তারা এও খতিয়ে দেখেন যে বেআইনি ভাবে সার মজুত রয়েছে কী না গুদামে। সারের রেট চার্ট যথাযথভাবে দোকানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে কী না, তাও খতিয়ে দেখা হয়। বিক্রেতাকে পরামর্শ দেওয়া হয় যাতে তারা রেট চার্ট প্রকশ্যে ঝুলিয়ে রাখেন। এদিন পুলিশ আধিকারিকরা মজুত সারের হিসাবও মিলিয়ে দেখেন।
এদিনের এই অভিযান প্রসঙ্গে পুলিশ আধিকারিক নিমাই চৌধুরী বলেন, “অনেক জায়গায় শোনা যাচ্ছে, সারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। তাই আজকে আমরা বিভিন্ন দোকানে ঘুরে সমস্ত কিছু যাচাই করে দেখছি। যদি কোন গরমিল সামনে আসে তাহলে আমরা আইনত ব্যবস্থা নেব। এবং এই অভিযান সারা জেলা জুড়ে চলবে”।
এই কালোবাজারি নিয়ে কী বক্তব্য কৃষিমন্ত্রীর?
এই বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কালোবাজারি রুখতে আমরা একাধিক ব্যবস্থা নিতে পারি। প্রয়োজনে ডিলারদের কালো তালিকা ভুক্ত করা হবে। লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হতে পারে”।
তিনি এও জানান, “কালোবাজারি রুখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেসব জায়গা থেকে অভিযোগ বেশি আসছে, সেইসব জায়গার দোকানগুলিতে হানা দেওয়া হচ্ছে। কী দামে সার বিক্রি করছে তারা, গোডাউনে সার মজুত করে রাখা হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের তরফে”।





