জয়নগর গ্রামে ঢুকতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে সুজন-নওশাদরা, চলল দফায় দফায় বচসা, ধ্বস্তাধস্তি

জয়নগর কাণ্ডের জেরে এলাধিক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। তাদের ঘরে ফেরাতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়লেন সুজন চক্রবর্তী, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়-সহ সিপিএম নেতারা। নওশাদ সিদ্দিকিকেও বাধা দেয় পুলিশ। এর জেরে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জয়নগরের দলুয়াখাকি গ্রাম। পুলিশের কথায়, বহিরাগতদের এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।  

গতকাল, সোমবার কাকভোরে খু’ন হন তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর। এরপর থেকেই কার্যত আগুন জ্বলছে জয়নগররে দলুয়াখাকি গ্রামে। তৃণমূল নেতার খু’নে অভিযুক্ত একজনকে পিটিয়ে খু’ন করে উত্তপ্ত জনতা। অন্য এক অভিযুক্ত পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। তৃণমূল নেতার খু’নের ঘটনার পরই ওই গ্রামের বেশ কিছু বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এমন অত্যাচারের জেরে ঘরছাড়া বহু পরিবার।

জানা গিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার দলুয়াখাকি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির মহিলাদের সঙ্গে দলীয় অফিসে কথাবার্তা বলেন সিপিএম নেতার। তাদের পাশে থাকার বার্তা দেন। এরপর এদিন বিকেলে ঘরছাড়াদের সঙ্গে নিয়ে জয়নগরের দলুয়াখাঁকি গ্রামে যাচ্ছিলেন সিপিএমের প্রতিনিধিদল। ছিলেন কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, সুজন চক্রবর্তী, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা।

অভিযোগ, গ্রামে ঢোকার পথে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পুলিশি বাধার মুখে পড়ে একা যাওয়ার আর্জি জানান নেতারা। কিন্তু তাতেও সম্মতি মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। এই নিয়ে বচসার জের পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বাম নেতারা। পুলিশের বাধা পেয়ে ফিরে আসেন কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি না থাকা সত্ত্বেও তাদের কেন বাধা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঘরছাড়াদের জন্য প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের।

এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সুজন চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, “আমরা সব মহিলাদের নিয়ে থানায় যাব। অভিযোগ জানাব। পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কতটা পুলিশের দায়িত্ব, আর কতটা আমাদের দায়িত্ব, সেটা বুঝিয়ে দিয়ে আসব। আমরা তিন দিন সময় দেব। তার মধ্যে কাজ না হলে, আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে আসব”।

এদিন জয়নগরের দলুয়াখাঁকি গ্রামে গিয়েছিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও। কিন্তু গ্রামে ঢোকার আগে তাঁকেও বাধা দেয় পুলিশ। তিনিও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও বচসায় জড়িয়ে পড়েন।  পুলিশের উদ্দেশে নওশাদকে বলেন, “কী কারণে আমাকে ওই এলাকায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি একজন জনপ্রতিনিধি, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর অধিকার আমার আছে। আমাকে লিখিত অর্ডার দিন তাহলে আমি ওই এলাকায় যাব না”।

RELATED Articles